সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত প্রকৃত আসামিদের শনাক্তে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শুরু হচ্ছে।
সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার ধার্য করেছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
তিনি বলেন, ‘এ হত্যার ঘটনায় প্রকৃত আসামি শনাক্তে ১০ বছর আগে রুল দিয়েছিল হাইকোর্ট। আজ রুলের শুনানির বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেছিলাম। আদালত বলেছেন, শুনানির জন্য এটি আগামীকাল (আজ) কার্যতালিকায় থাকবে।’
২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। মামলাটি প্রথম তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। এরপর তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে হাইকোর্টের আদেশের এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে এ পর্যন্ত ৮৭ বারের মতো সময় নেওয়া হয়েছে বিচারিক আদালত থেকে। সবশেষ গত ২৭ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিনে প্রতিবেদন না আসায় আগামী ২৬ এপ্রিল নতুন করে দিন ধার্য করে ঢাকার একটি আদালত।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। রিটের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুল দেয় হাইকোর্ট। রুলে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চায় আদালত।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘ঘটনার ১১ বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষ হয়নি। ২০২০ সালে হাইকোর্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছিল। র্যাব তখন বলেছে তদন্ত চলছে। ডিএনএ টেস্টের জন্য কয়েক বছর গেল। ইতিমধ্যে নিম্ন আদালতে ৮০ বারের বেশি সময় নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি যথেষ্ট সময় পার হয়েছে। এটা আর অনন্তকাল চলতে দেওয়া যায় না। এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করা জরুরি।’
