‘দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিএনপির তথাকথিত নেতাদের আপত্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটি।
এক প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা করেন বাঙালি পুলিশ সদস্যরা। দেশের স্বাধীনতার জন্য সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেন। ১৪ হাজার পুলিশ সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের উত্তরাধিকারী বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা সেবার সুমহান ব্রত নিয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
এরপর পুলিশের নানা ভূমিকা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনায় পুলিশের আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে নয় বরং বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সত্য ও সঠিক ইতিহাসের আলোকে শতভাগ সত্য বক্তব্য প্রদান করেছেন। যা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিরা মেনে নিতে না পারলেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির মানুষেরা ঠিকই এই সত্য বক্তব্য প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। রাতের আঁধারে বিনা বিচারে হাজার হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারী অবৈধ সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বেচ্ছায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করে কী করেছেন সেটা দেশবাসী ভালো করেই জানে। অনেক বিএনপি নেতারাও এই সত্য স্বীকার করে বিভিন্ন সময় বক্তব্য ও লেখালেখি করেছেন। কতিপয় বিএনপি নেতা এখন এই সত্য অস্বীকার করলেও এ দেশের মানুষ তাদের মিথ্যাচার খুব সহজেই বুঝতে পারে। কারণ ইতিহাস তার আপন গতিতে চলে। সত্য কখনো চাপা থাকে না।’
আরও বলা হয়, ‘মির্জা ফখরুল ও রিজভীর বক্তব্যে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বাধীন বিরোধী অপশক্তির মুখপাত্র বিএনপি এখন মিথ্যুকদের দলে পরিণত হয়েছে। মহান স্বাধীনতার মাসে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের সূচনাকারী গর্বিত পুলিশের আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার এর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিএনপির মহাসচিব ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমাবেশ এবং গণমাধ্যমে আপত্তিকর, আক্রমণাত্মক, বিভ্রান্তিকর ও বিব্রতকর বক্তব্য প্রদান করছেন যা পরিকল্পিত, অশোভনীয় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
‘দেশপ্রেমিক পুলিশের মতো পেশাদার বাহিনী সম্পর্কে বিএনপি নেতাদের এ ধরনের হুমকি প্রদানপূর্বক বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়ে বিএনপি দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি-জামাত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এদের রুখে দেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবিরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।’
অন্যথায় মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তারসহ বিএনপি নামক সন্ত্রাসী দলকে নিষিদ্ধের দাবিতে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ— এমনটাও বলা হয় প্রতিবাদ লিপিতে।
