ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত নাটোরের বাগাতিপাড়ার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। উপজেলার ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কয়েক বছর ধরে প্রেষণে রয়েছেন এবং একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদও শূন্য। সব কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম ২০১৫ সাল থেকে প্রেষণে আছেন। আবার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মজনু মিয়া ২০২০ সালের অক্টোবরে বদলি হয়ে জেলার সিংড়া উপজেলায় যোগদান করেন। ফলে তার পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টিতে প্রধান শিক্ষক আছেন এবং বাকি ২০টিতে নেই। এই ২০টির মধ্যে আবার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের নামো হাটদৌল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঁকা ইউনিয়নের তকিনগর সরকারি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন কামাল বলেন, ‘আমাদের স্কুলে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়টির অবস্থান উপজেলার কেন্দ্রে হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার উপজেলা পর্যায়ের সব কার্যক্রম এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ ছাড়া আদালতে বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনজন শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে দুজনই দীর্ঘদিন ধরে নেই। বিশেষ করে প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় পুরো উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার একজন মাত্র কর্মকর্তার কারণে শিক্ষকরাও বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দেখা যাচ্ছে কর্মকর্তা স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছেন অথবা মিটিংয়ে আছেন, সেই সময় শিক্ষকরা অফিসে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম ম-ল বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রধান কাজ বিদ্যালয় পরিদর্শন করা। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় সেই কাজে ঘাটতি পড়েছে। আবার বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশগ্রহণ এবং তিনজনের কাজ একা করতে গিয়ে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, আশা করি অল্প দিনের মধ্যে সেটি পূরণ হয়ে যাবে এবং পদ শূন্য থাকার কারণে আমরাও সমস্যায় আছি।’
