টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হঠাৎ করে বংশাই ও ঝিনাই নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তলদেশ ও তীরবর্তী এলাকার আবাদকৃত বোরো ধান ও বিভিন্ন প্রকার সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।
এ উপজেলার উত্তর এলাকা দিয়ে ঝিনাই ও বংশাই নদী প্রবাহিত হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রতি বছর এসব নদীর তলদেশ এবং তীরবর্তী নিম্ন এলাকার চর জেগে উঠে।
জেগে ওঠা এসব চরে স্থানীয় চাষিরা বোরো ধানসহ নানা প্রকার সবজির আবাদ করে থাকেন। এ বছরও তা আবাদ করেছিলেন চাষিরা।
মঙ্গলবার উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নে শেওরাতৈল, টেংরাপাড়া প্যাচপাড়া, বান্দরমারা তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা, রামপুর ফতেপুর ইউনিয়নের চাকলেশ্বর, নিচিন্দপুর, সুতানড়ী, ফতেপুর, থলপাড়া ও বানকাটা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানসহ আবাদকৃত সেসব সবজি জোয়ারের পনিতে তলিয়ে গেছে। এতে চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, তিন দিন আগেও যেখানে সবুজের বিস্তীর্ণ মাঠ ছিল। সেখানে বর্তমানে জোয়ারের পানি থৈ থৈ করছে।
শেওড়াতৈল গ্রামের কৃষাণী হাসিনা বেগম বলেন, আমরা ১৫ হাজার টাকা খরচ করে নদীর শুকনো জায়গায় করলা চাষ করেছি কিন্তু অসময়ে নদীতে পানি এসে সব শেষ করে দিয়েছে।
গ্রামটির বোরো চাষি দুর্লভ সরকার বলেন, ৫০ শতাংশ জমিতে বিআর ২৯ জাতের ধান ও ১০ শতাংশ জমিতে অন্য জাতের ধান চাষ করেছিলাম। চৈত্র মাসের জোয়ারের পানিতে আমার আধা পাকা ধান সব তলিয়ে গেছে। সারা বছর কি খাবেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত বলে জানান।
একইভাবে চাকলেশ্বর গ্রামের রহম সিদ্দিকী. আবুবক্কর মৃধা, করম সিদ্দিকী, মান্নান মৃধা, নাসির মৃধা, শেওরাতৈল গ্রামের গৌর সরকার, হারাধন ও প্রহল্লাদের আধা পাকা বোরো ধান ও ফলন্ত করলা খেত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
অন্যদিকে ঝিনাই ও বংশাই নদীতে ছাটা ফেলে চাষ করা সব মাছ ও ছাটা জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে বলে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুর রউফ জানিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, নদীতে অসময়ে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তলদেশ ও তীরবর্তী নিম্ন এলাকায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে।
এ ছাড়া শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিসের লোকজন এলাকায় গিয়ে ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল সোমবার পানির বৃদ্ধির যে ক্ষতি ছিল মঙ্গলবার তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন করা হচ্ছে।
