রাজবাড়ী লৌহজংয়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে ভিড়

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০১:২২ এএম

দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো রাজবাড়ী জেলা ও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৩ রোগী।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নার্স ও চিকিৎসকদের। সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা মাত্র ১২টি। শয্যা পূর্ণ হয়ে গেলে ফ্লোরে ১০ জনকে রাখার মতো ব্যবস্থা আছে। গত চার-পাঁচ দিন ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত সোমবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১৫ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় গেছে ৪৫ এবং হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৫ জন।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মিনতি রায় চৌধুরী বলেন, ‘রোগীর চাপে আমরা নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। তবুও সেবা দিতে কোনো কার্পণ্য করছি না।’ রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, ‘এখন প্রচন্ড গরম। রমজান মাসে ইফতারের সময় খাবারে খুব সাবধান থাকতে হবে। বেশি ভাজাপোড়া খাবার যেন না খাই। তাছাড়া গরমে খাবার নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট খাবার ডায়রিয়ার একটা কারণ হতে পারে। প্রচুর পরিষ্কার পানি ও স্যালাইন খেতে হবে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহে প্রায় ১৫০ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সংখ্যা বেশি। গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বেজগাঁও গ্রামের ৪০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগ একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে প্রতিদিনই হাসপাতালে ২৫-৩০ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আসছে। এক সপ্তাহে অন্তত সাতজন জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

তবে ডায়রিয়ার ধরন চিন্তা বাড়াচ্ছে চিকিৎসকদের। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হক বলেন, ‘কোনো কোনো রোগী এমনভাবে আক্রান্ত হচ্ছে যে, তাদের তাৎক্ষণিক পালস (নাড়ি) পাওয়া যাচ্ছে না। রক্তচাপ খুবই কম। তিন-চার দিনের চিকিৎসায়ও রোগী ভালো হচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত