আগামী অর্থবছরের বাজেটে গরিব ও প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলছে, মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ চাপে আছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিতে হবে। এছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে আয়কর মুক্ত সীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
গতকাল মঙ্গলবার সিপিডির ধানম-ি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়। সুপারিশ তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সময় সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এবারের বাজেটে আমাদের রাজস্ব আয়ের কাঠামোতে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে করোনার পর এ বছরের বাজেটে অগ্রাধিকারে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষের করমুক্ত আয় সীমা ৩ লাখ টাকা। এটি বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করতে হবে। করোনার বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি খাতে সর্বোচ্চ কর হার কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছিল। আগামী বাজেটে তা আগের জায়গায় অর্থাৎ ৩০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও করোনার কারণে বেশ কিছু খাতে করপোরেট কর কমানো হয়েছিল। এগুলো আবার আগের জায়গায় নেওয়া উচিত। সিগারেট কোম্পানির করপোরেট কর ৫০ শতাংশ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভর্তুকি উৎসাহিত করা উচিত নয়। কারণ ভর্তুকি রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয়। কিন্তু আমাদের মতো দরিদ্র জনগণের কথা মাথায় রেখে খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য কিছু কিছু খাতে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। তবে আগামীতে ক্রয়ান্বয়ে কীভাবে ভর্তুকি তুলে দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে চেষ্টা করতে হবে। ভর্তুকি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার প্রয়োজন রয়েছে, ভর্তুকির সুবিধা তার কাছেই যেতে হবে।
