ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মারিওপোল শহরে এক হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা রুশ সেনাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি রুশ সেনারা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রাখার পর ইউক্রেনীয় সেনারা আত্মসমর্পণ করল।
দীর্ঘদিন রাশিয়ার হাতে অবরুদ্ধ থাকার কারণে দক্ষিণাঞ্চলীয় এই বন্দরনগরীতে ব্যাপক মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রুশ সেনাদের অনবরত গোলা বর্ষণে শহরটি প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মারিওপোল শহরে... ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের ১ হাজার ২৬ জন সেনাসদস্য স্বেচ্ছায় তাদের অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করেছে’।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে বৃষ্টির মতো।
প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দার মারিওপোল শহরটি দখল করা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি আজভ সাগরে ইউক্রেনের কৌশলগত বন্দর এবং ডনবাস অঞ্চলে রুশ-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর কাছেই অবস্থিত।
গত মাসের শেষের দিকে মারিওপোলের শহর কাউন্সিল জানিয়েছিল, রুশ সামরিক অভিযানের কারণে ১ লাখ ৪০ হাজার বেসামরিক মানুষ পালাতে সক্ষম হলেও আরও ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ শহরটিতে আটকা পড়েছেন।
এছাড়া এক মাসের বেশি সময় ধরে রুশ সেনাদের অনবরত হামলায় কৌশলগত এই শহরটি কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। ফলে শহরে আটকে পড়া আতঙ্কিত বেসামরিক বাসিন্দাদের অনেকে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। শহরে পানি, খাবার এবং ওষুধের মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
