নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের লোকজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার বারদী বাজার এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো বারদী এলাকায় বিরাজ করছে উত্তেজনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের বারদী বাজার এলাকায় বর্তমান ইউপি সদস্য যুবলীগ কর্মী নাজমুল হক পক্ষের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মী জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবু পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল।
গত মঙ্গলবার ইফতারের পর বারদী বাজারে নাজমুলের চাচা মুজিবুর ও হাসান নামের দুই ব্যক্তির মধ্যে তর্কের এক পর্যায়ে মুজিবুর পক্ষের লোকজন হাসানকে মারধর করে। পরদিন গতকাল বুধবার সকালে বারদী বাজার এলাকায় নাজমুল পক্ষের তাজুল ইসলাম জাকির পক্ষের হাসানকে মারধর করে। একপর্যায়ে জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবু এসে নাজমুলের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, রড, টেঁটা, রামদা, লাঠিসোঁটায় সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষে জাকির সরকার, জামাল, মাসুম সরকার, বাসেদ সরকার, মামুন সরকার, সামসুল, হুমায়ুন সরকার, হাসান, তাইজুল ইসলাম, হযরত আলী, বরকতউল্লাহ, সোহেল সরকার, আলী আম্মেদসহ ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জাকির সরকার, জামাল ও সামসুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হক জানান, সম্প্রতি জাাকির সরকারের পক্ষের আমিনুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান, মামুন সরকারি একটি পুকুর লিজ নিতে উঠেপড়ে লাগে। এ নিয়ে সংঘর্ষ।
