এবার বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ইমরান খান

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২২, ১১:০৪ এএম

ইমরান খানের প্রশ্ন, অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির দিন মধ্যরাতে কী করে সুপ্রিম কোর্ট ও ইসলামাবাদ হাইকোর্ট তাদের সময়ের অনেক পরেও খোলা থাকল?

ইসলামাবাদ হাইকোর্ট অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, যখন কোনো অত্যন্ত জরুরি বিষয় থাকে, তখন তারা নির্ধারিত সময়ের পরেও কোর্ট খোলা রাখেন। হাইকোর্ট সেদিন খোলা রাখা হয়েছিল একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।

সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়ার বিরুদ্ধে ইমরান খান সরকার যাতে কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে, সেই বিষয়ে আবেদন জমা পড়েছিল। তবে ইমরান সরকার জানিয়েছিল, তাদের এই ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ইমরান বুধবার জনসভায় বলেছেন, ‘আমি আপনাদের স্বাধীনতার দাবি তুলে জেলে গেছি। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন বিচারবিভাগ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে এবং সমাজের দুর্বল মানুষদের পাশে দাঁড়াবে, ক্ষমতাশালীদের পাশে নয়’।

ইমরান বলেন, ‘আপনারা মধ্যরাতের পরেও কোর্ট খোলা রাখবেন। এই দেশ আমাকে ৪৫ বছর ধরে জানে। আমি কি কখনো আইন ভেঙেছি? আমি যখন ক্রিকেট খেলেছি, কেউ কি আমার বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনতে পেরেছে? ইমরানের দাবি, আমি ২৫ বছর ধরে রাজনীতিতে আছি। আমি কখনো মানুষকে উসকানি দিইনি। আমি জানতে চাই, আমি কি অপরাধ করেছি, যার জন্য আদালত এত রাতেও খুলে রাখতে হবে?’

ইমরান খান নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে অনুরোধ করেছেন, তার দলের লোকেদের হয়রানি বন্ধ করতে। ইমরান বলেন, তাদের বিনা দোষে ধরা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।

অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর সংসদ থেকে পদত্যাগ করে দেশজুড়ে ধারাবাহিক জনসভার কর্মসূচি শুরু করেছেন পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির পেশোয়ার শহরে বিশাল একটি জনসমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশে ইমরান খান তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট নিয়ে মধ্যরাতে আদালত বসানোর সমালোচনা করেছেন।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোট ডেপুটি স্পিকার নাকচ করে দেওয়ার পর দেশটির আদালত থেকে পার্লামেন্ট পুর্নবহাল করে অনাস্থা ভোট গ্রহণের নির্দেশ এসেছিল। গত শনিবার অনেক নাটকীয়তার পর অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়েছিলেন তিনি।

আবার শনিবার মধ্যরাতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট খোলা হয় এবং সেখানকার প্রধান বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে পাঠান। তখন জানানো হয়েছিল যে, হাইকোর্ট একটি জরুরি পিটিশনের শুনানি করবে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইমরান খান রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং সেনাপ্রধানকে পদচ্যুত করার সুপারিশ করেছেন। ফলে জনস্বার্থে আদালতের ওই আদেশ বাতিল করে দেওয়া উচিত।

ইমরান খান ক্ষমতা হারানোর পরদিন রবিবার রাতে তার সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এসেছিল। সে বিষয়ে পেশোয়ারের সমাবেশে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জনগণ এভাবে আর কখনো রাস্তায় নামেনি। যখনই পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা হারিয়েছেন, তখন জনতা মিষ্টি বিতরণ করেছে। কিন্তু আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি সরে যাওয়ার পর আপনারা সবাই (রাস্তায় নেমে) এসেছেন এবং সম্মান দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে এটি সত্তরের দশকের পাকিস্তান নয়। এটি নতুন পাকিস্তান। এখন পাকিস্তানের মানুষ সচেতন’।

তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ করে নতুন সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘যেদিন আমরা ডাক দেবো, সেদিন আপনারা পালানোর পথ পাবেন না’।

আরও পড়ুন...

ইমরানের খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু

সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে প্রচারণা, ইমরানের সোশ্যাল মিডিয়া টিম গ্রেপ্তার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত