স্বামীকে অপহরণ করে কথিত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠাল স্ত্রী!

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৩:৪৮ পিএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে অপহরণ করে সাভারের একটি কথিত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আটকে রাখেন স্ত্রী। ৩ দিন পর পুলিশ স্বামী রেজাউল করিমকে উদ্ধার করার পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত ৬ অপহরণকারীকে আটক করে।

রবিবার সকাল ১১টার দিকে সাটুরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আটকরা হলেন- সাভার ব্যাংক কলোনি এলাকার আতিকুল ইসলাম (৪২), ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গার বরাইচ এলাকার নাসির আহম্মেদ (৩২), গাজীপুর জেলার কাশিমপুর উপজেলার সারদাগঞ্জ এলাকার আবুল কাইয়ুম (৩২), সাভার গেন্ডা এলাকার শহিদুল হক দিপু, ঢাকার বংশাল থানার চানখারপুল এলাকার সাজিদ হাসান বাবু (৪২),  সাভার থানার রাজাশান এলাকার আব্দুল হাকিম (৫৫)।

সাটুরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, অপহরণকারী সদস্যদের গত শনিবার রাতে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় অবস্থিত কথিত ‘আমার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ থেকে আটক করা হয়েছে। তারা সবাই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক ধরে নিরাময় কেন্দ্রে আটকে রেখে অত্যাচার করত এবং পরে মুক্তিপণ দাবি করত।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের রেজাউল করিম (৩৪) ও তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (২৮) সঙ্গে পারিবারিক ঝগড়া হয়।

এর জেরে গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের উত্তর আয়নাপুর গ্রামের বাশার মেম্বারের বাড়ির সামনে থেকে রেজাউল করিমকে অজ্ঞাত কয়েকজন লোক একটি সাদা হায়েস গাড়ি নিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়ায় যায়নি।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) রেজাউলের বাবা সাটুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সাটুরিয়া থানায়।

পরে শনিবার (১৬ এপ্রিল) প্রযুক্তির সহায়তায় সাটুরিয়া থানার এসআই মোক্তার হোসেন ফোর্স নিয়ে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় অবস্থিত একটি কথিত মাদকাসক্তি কেন্দ্র থেকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ আসামি, অপহরণকৃত রেজাউল এবং এ কাজে ব্যবহৃত হায়েস গাড়িটিও উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, আমার স্ত্রীর তানিয়া আক্তার ঘটনার দিন মোবাইল দিয়ে ফোন করে তিল্লি বাজারে যেতে বলে। আমি তাদের কথামতো গেলে বাশার মেম্বারের বাড়ির পাশ থেকে আমাকে কোনো কিছু না বলে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়।

এরপর মারধর করলে আমি বলি রোজা রেখেছি। এ কথা বলার পর সিগারেট ধরিয়ে আমাকে খেতে বলে। আমি রোজা রয়েছি বললেও ওরা আমাকে মারধর করে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘুরে।

রেজাউল করিম আরও বলেন, সাভারের ব্যাংক কলোনিতে আমাকে নেওয়ার পর গরম পানি দিয়ে ১ ঘণ্টা গোসল করায়। এরপর মেডিসিনযুক্ত খাবার দেয়। সে খাবার খেয়ে বমি করি। এরপর আমাকে গাঁজা ইয়াবাসহ সব ধরনের নেশা করতে বলে। আমি নেশা করতে অপারগতা প্রকাশ করলে চলে অমানবিক নির্যাতন। এই মাদকাসক্তি কেন্দ্রে আরও ১০/১২ জন রয়েছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের নেশা ও ওষুধ দিয়ে পাগল বানিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা। তাদের চাহিদামতো টাকা দিতে না পারলে রোগীকে পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেয় বলে তিনি জানান।

মামলার বাদী রেজাউলের বাবা মো. বহির উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে ধূমপান করে না। সে কোনো ধরনের সিগারেট খায় না। আগামী ৭ মে ছেলে রেজাউলের বিদেশ যাওয়া কথা। বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে ছেলের স্ত্রী তানিয়া সাভার থেকে একটি ভুয়া রিহাব সেন্টার দেখিয়ে সন্ত্রাসী  ভাড়া করে তানিয়া ও শাশুড়ি বাতাসী বেগম রেজাউলকে অপহরণ করায়। ছেলে রেজাউলকে না  পেয়ে সাটুরিয়া থানায় বিষয়টি শুক্রবার অবগত করি।

আমার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মো. আতিকুর ইসলাম মিঠু বলেন, গত বৃহস্পতিবার রেজাউলের স্ত্রী তানিয়া তার স্বামীকে মাদকাসক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করবে মর্মে ফরমে সহি স্বাক্ষর করে ভর্তি করেন। এরপর আমরা ওইদিন বিকেলে তাদের সহযোগিতায় সাটুরিয়া এলাকা থেকে রেজাউলকে ধরে কেন্দ্রে নিয়ে আসি। 

সাটুরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, আমার মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র অফিস করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের সরকারি কোনো অনুমোদন নেই। আমরা অপহরণ মামলা নিয়েছি এখন রেজাউলের স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত