‘ইমেজ’ বৃদ্ধি করতে সরকার আত্মঘাতী কৌশল নিচ্ছে: রব

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৫১ পিএম

শ্রীলঙ্কাকে বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ দিয়ে সরকারের ‘ইমেজ’ বৃদ্ধির কৌশলকে আত্মঘাতী এবং ‘ভয়ংকর অন্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, দেশের জনগণকে ১১ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকার অধিক ঋণে আবদ্ধ রেখে এবং যখন পাঁচ কোটি জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে তখন শ্রীলঙ্কার জন্য রিজার্ভ থেকে ২৫ কোটি ডলার ধার দিয়ে সরকারের বাহবা কুড়ানোর মানসিকতা কোনো দূরদর্শী কূটনীতির পরিচায়ক নয়। 

তিনি আরও বলেন, ‘ঋণগ্রস্ত শ্রীলঙ্কার ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১১৯ শতাংশ এবং ঋণ ফেরত দেয়ার সামর্থ্য নেই জেনেও শ্রীলঙ্কার জন্য ঋণ বরাদ্দ করা বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোনোক্রমেই জরুরি বা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের ঋণ ফেরতের শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়ে ঋণ ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা সরকারের অপরিপক্ব ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।’

আ স ম রব বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার উদাহরণ থেকেই সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে বড় অবকাঠামোর প্রকল্প গ্রহণ, ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মান, অর্থ খরচের জবাবদিহি, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় এবং ব্যয় বৃদ্ধিসহ আত্মতুষ্টির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশের সতর্ক হওয়া উচিত। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায় বেড়ে যাবে, স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে বেরিয়ে গেলে বাণিজ্যের বিশেষ অগ্রাধিকার সুবিধা বাতিল হবে- তাই ভুল নীতি, ভুল প্রকল্প বাছাই প্রশ্নে বাংলাদেশের অনেক বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’

সরকারের ‘বাহাবা’ কুড়ানোর অপরিণামদর্শী রোহিঙ্গা ইস্যুও জাতিকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে নিপতিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। কিন্তু সরকার কোনোটার দায় বহন করবে না। ভুল রাজনীতি থেকে অবশ্য আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। সরকারের ‘ক্ষমতা ধরে রাখা’র সাময়িক সুবিধা গ্রহণ পরিণতিতে রাষ্ট্রকে সীমাহীন বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশকে অনেক বেশি দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত