ফেনীর ইনজামাম বলে খ্যাত ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট ক্লাবের সাবেক ক্রিকেটার কাউছার আলম তৈমুর (৪৫) ‘স্ত্রীর দেওয়া গরম পানিতে’ ঝলসে মারা গেছেন।
রবিবার দুপুর ১২টায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত তৈমুর ফেনী শহরের শহীদ সেলিনা পারভিন সড়কের (নাজির রোডের) আবু তৈয়ব চৌধুরীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় তৈমুরকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেন তার স্ত্রী। এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহতের স্ত্রী খাদিজা বিনতে শামস রূপার বিরুদ্ধে তৈমুরের ছোট ভাই তানজুর চৌধুরী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেছেন।
নিহতের ছোট ভাই তানজুর চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তৈমুরের সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্ত্রী খাদিজা বিনতে শামস রূপার সঙ্গে কলহ চলছিল। গত ১১ এপ্রিল ভোর ৫টার দিকে তারা দুই স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর চিৎকার শুনে গিয়ে দেখতে পান গরম পানিতে তৈমুরের শরীর ঝলসে দেয়া হয়েছে। সেখানে থেকে প্রথমে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। তার শরীরের ৭০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল।
তৈমুরের পরিবারের দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৈমুর নিজের স্বাক্ষর করা জবানবন্দি রেখে গেছেন। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘আমি কাউছার আলম চৌধুরী সজ্ঞানে বলছি, আমার এই ঘটনার জন্য আমার বউ রূপা চৌধুরী জড়িত। সে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় গায়ে গরম পানি ঢেলে দেয়।’ এই লেখার নিচে তৈমুরের স্বাক্ষর ও টিপসই রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তৈমুরের স্ত্রী রূপা চৌধুরী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তাকে ফাঁসাতে অন্য কেউ চক্রান্ত করেছে। ওই দিন সেহরী খাবার পর তিনি ঘুমিয়েছিলেন। তৈমুরের গায়ে গরম পানি কী করে পড়েছে তা তিনি জানেন না।
ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে রুপাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তৈমুরের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেনীর ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার এ নির্মম মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
