ভুল প্রশ্ন, বিলম্বে সরবরাহ পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২২, ১১:২১ পিএম

লালমনিরহাটে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রশ্নপত্রে ভুল ও প্রশ্ন সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় শতাধিক পরীক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার হয়েছে ৭২ শিক্ষার্থী। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করায় দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। ৩৯২ সেট (মেঘনা) প্রশ্নপত্র কম সরবরাহ করায় অনেক দেরিতে পরীক্ষা শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার জেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে এসব ঘটনা ঘটে।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জেলায় ২৫টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৩ হাজার ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও সুরমা নামের চারটি সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয়। মেঘনা ও পদ্মা সেটে প্রশ্নপত্র ভুল ও প্রয়োজনের তুলনায় কম প্রশ্নপত্র থাকায় শতাধিক পরীক্ষার্থী বিপাকে পড়েন। প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অনেক পরীক্ষার্থী নিয়োগ পরীক্ষা না দিয়েই বাড়িতে চলে যায়। আদর্শ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাদিকা খাতুন ও আমেনা আকতার। তারা বলেন, ‘সুরমা কোডে তাদের প্রশ্নপত্রে ক্রমিক সংখ্যার ধারাবাহিকতায় ভুল ছিল। দায়িত্বরত শিক্ষকদের সাহায্য চাইলে তারা বলেন, তোমাদের কপাল খারাপ।’

এমন অব্যবস্থাপনার কারণে আদর্শ ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে মেঘনা সেটের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় বলে জানান ওই কেন্দ্রের কেন্দ্রপ্রধান মাহবুবুল আলম মিঠু।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম নবী বলেন, ‘সরকারি কলেজ, পিটিআই কলেজ ও আদর্শ ডিগ্রি কলেজ সেন্টারে মেঘনা সেটের প্রশ্নপত্র প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের পরে পরীক্ষা নেওয়া হয়।’

জেলা প্রশাসক আবু জাফর প্রশ্নপত্রে ভুল ও প্রশ্ন সরবরাহে বিলম্ব প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবকিছু সমাধান করেই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত