গত কয়েক দিন যাবৎ ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন বিপণি-বিতানে জমে উঠেছে ঈদবাজার বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। ঈদের ছয়-সাত দিন বাকি থাকলেও নতুন জামা-কাপড় কেনার কাজটা আগে ভাগেই সারতে চান ক্রেতারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেনা-বেচা চলছে উৎসব মুখর পরিবেশ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপণি-বিতানগুলোতে ক্রেতারা কিনছেন তাদের পছন্দের পোশাক। করোনা মহামারি কারণে দুই বছর পর থাকার পর এবারের ঈদবাজারে ক্রেতারা কেনাকাটা করতে পেরে খুশি, আর বিক্রেতারাও এভাবে বিক্রি করতে পেরে অনেক খুশি। তবে, ক্রেতাদের অভিযোগ আগের চেয়ে বেড়েছে সকল প্রকার কাপড়ের মূল্য।
ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে এবং ক্রেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ঢাকা-১ দোহার-নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ।
দোহারের জয়পাড়া, মেঘুলা, নারিশা এবং নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী, শিকারিপাড়া, বান্দুরা ও বাগমারা এলাকার কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে উপজেলার বিভিন্ন ফুটপাত ও বিপণি-বিতানগুলোতে ততই ভিড় বাড়ছে। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দনীয় নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন।
তীব্র গরম ও দাবদাহ উপেক্ষা করে ক্রেতাদের সকালে ও বিকালে ঈদের কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। অনেকে তীব্র গরমের কারণে সন্ধ্যার পর দোকানে এসে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করছেন।
উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটের দোকানিরা পাল্লা দিয়ে ক্রেতাদের কাছে পোশাক বিক্রি করছেন। দোকানগুলোতে মেয়েদের সিল্ক, বেনারসি, জামদানি ও কাতান শাড়িসহ থ্রি-পিস, লং-থ্রিপিস, সালোয়ার কামিজ, লেহেঙ্গা, ছিট-কাপড় এবং ছেলেদের পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফতুয়াসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টি-শার্ট, জিনস-প্যান্ট, গ্যাবাডিং-প্যান্ট, হাফ শাট ও গেঞ্জি বিক্রি করছেন। ডিজাইন ও রকম ভেদে কাপড়গুলোর দামও ওঠানামা করছে। বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকার মধ্যে।
এই ঈদে দোকানিরা নতুন সব ডিজাইনের যেসব ড্রেস বাজারে এনেছেন, তার মধ্যে রয়েছে- ইন্ডিয়ান সাহারা জর্জেট, ডাইমন্ড, বিনয়, কাঁচাবাদাম, লাচ্ছা, বিবেগ, লংস্কার্ট, পাখি-লেহেঙ্গা, ঐশ্বরিয়ার, অলগাঞ্জা ইত্যাদি। এসব বিক্রি হচ্ছে ২হাজার থেকে সাড়ে ৭হাজার টাকা পর্যন্ত।
আবার দরজির দোকানেও প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। এক সপ্তাহ আগেই থেকে কাপড় বানানোর অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন দরজিরা। অনেক ক্রেতারা ঈদের জন্য মাথার টুপি এবং আঁতর কিনছেন।
উপজেলার বান্দুরা সিজান মাল্টি শপিংমলে ঈদবাজার করতে আসা তানজিলা আক্তার রিফা বলেন, গত দুই বছর মনের আনন্দে জামা-কাপড় কিনতে পারিনি তাই এবছর আগে ভাগেই জামা-কাপড় কেনাকাটার কাজ শেষ করতে মার্কেটে এসেছি। চলতি সপ্তাহে নিজের ও আত্মীয়স্বজনের জন্য শপিং শেষ করতে চাই। কারণ শেষদিকে গিয়ে অনেক ভিড় হয়।
আরেক ক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ঈদেও সকল জিনিসপত্রের দাম বেশি। কিন্তু কি আর করার আছে। ঈদে কিছু কেনাকাটা করা দরকার ছিল, তাই মার্কেটে এসেছি। এখন কিছু কাপড় কিনব আর ঈদের শেষ মুহূর্তে আরও কিছু কাপড় কিনব।
বারুয়াখালী বাজারের মা বস্ত্রালয়ের মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ক্রেতারা নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনছেন। ঈদের শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা অনেক ভালো হয়।
উপজেলার বান্দুরা শাহাবুদ্দিন মার্কেটের ইউনিক ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আলতাফ হোসেন বলেন, করোনার কারণে দুই বছর ঈদে কেনাবেচা তেমন হয়নি। কিন্তু এবার রমজান মাসের শুরু থেকেই বিক্রি অনেক বেড়েছে। আশা করছি, এই ঈদে বেচাবিক্রি অনেক ভালো হবে।
এদিকে উপজেলার বারুয়াখালী গহের মার্কেটের ইয়াসরিব কসমেটিকসের স্বত্বাধিকারী শেখ রাজিব বলেন, সারা বছর কম-বেশি কসমেটিকস বিক্রি হয়, তবে এই ঈদকে কেন্দ্র করে বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী ও মধ্যবয়সী মহিলা ক্রেতারা আসছেন কসমেটিকস কিনতে। সব মিলিয়ে বেচাকেনা দিনদিন বাড়ছে।
আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, আমরা জনগণের জান-মাল রক্ষার জন্য সব সময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন বিপণিবিতান, দোকানগুলোতে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে পুলিশ সব সময় টহল দিচ্ছে।
