ডেনমার্কের রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ ডোনাল্ডসনের সাতক্ষীরায় আগমন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে সর্বত্র। সবার মধ্যে উৎসাহ ও প্রস্তুতি লক্ষণীয়।
অতিথিকে স্বাগত জানানোর কাছাকাছি হলেও তর সইছে না কুলতলী গ্রামের কিশোরী ময়নার।
সাতক্ষীরার তথ্য ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, ডেনমার্কের রাজকুমারী ম্যারি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে হেলিকপ্টারযোগে নামবেন, যাবেন উপকূলবাসীর সঙ্গে সময় কাটাতে খাবেন স্থানীয় একটি রিসোর্টে, ঘুরবেন ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে।
তবে অতিথির নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে বিটিভি ও পিআইডি ছাড়া কেউ সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা নিলীমা রাণী বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রীয় অতিথির নিরাপত্তার জন্য উপকূলের সাধারণ মানুষ সেখানে দেখতে যেতেও পারবেন না। সেহেতু দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমগুলোতে লাইভ দেখানোর জন্যও অনুরোধ এলাকার মানুষের।
বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান লিডার্সের নির্বাহী প্রধান মোহন কুমার মণ্ডল বলেন, উপকূলের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো কাজও দেখবেন এ জন্য উপকূলের সাধারণ মানুষের সঙ্গে এনজিওরাও স্বাগত জানাচ্ছে অতিথিকে।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসীম মৃধা বলেন, উপকূলবাসীর সঙ্গে জনপ্রতিনিধিরাও অতিথিকে বরণ করতে অধীর অপেক্ষায় আছে। তারা অনুষ্ঠান সফল করতে সব রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনীর স্টেশন অফিসার নুরুল আমিন বলেন, এ সফরের জন্য সর্বত্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে বন উপকূল সর্বত্র। অতিথির জন্য নির্মিত হচ্ছে নতুন হেলিপ্যাড। উপকূলবাসী অকৃত্রিম স্বাগত জানাতে তাদের কাচাগৃহকে কাদাপানিতে দিচ্ছে লেপে। রাস্তা করছে সংস্কার, যাতে অতিথির পথ চলতে না হয় কষ্ট। আর নিরাপত্তায় জড়িত সব প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে তারা পাহারা দিচ্ছে পানিতে, জঙ্গলে, ঘরবাড়িতে। এ কদিন নিষেধাজ্ঞা নয় অতিথির নিরাপত্তার স্বার্থে সুন্দরবনে ঢুকতে পারবে না সাধারণ পর্যটকেরা। মাছধরা জেলেদেরও অন্যদিকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এদিকে পুরো প্রস্তুতির কথা জানালেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, নিরাপত্তার জন্য সরকারের প্রায় গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠান এখান সাতক্ষীরা উপকূলে। তারা এবং জেলা প্রশাসন অতিথির সব আয়োজন সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, বুধবারই সুন্দরবন ভ্রমণ সেরে দুপুরের খাবার খেয়ে ডেনমার্কের রাজকুমারী রওনা দেবেন ঢাকার উদ্দেশ্যে।
