নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় মেন্দিপুর ইউনিয়নে মৎস্য চাষের জন্য ফিশারিতে পানি প্রবেশ করাতে ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হেকিমের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় কৃষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে বাঁধটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে পানি প্রবেশ রোধ করা গেছে বলে জানা গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পেতনা বাঁধের সন্নিকটে ধনু নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার ১১ সে.মি. ওপরে রয়েছে।
এর আগেও বাঁধ সংলগ্ন তার ফিশারিতে পানি প্রবেশ করাতে বাঁধ কাটার চেষ্টা করেছিলেন। পরে স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসনের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে কয়েক দফায় উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে উপজেলার বিভিন্ন বাঁধে ফাটল ও ধস দেখা যায়। বাঁধের ফাটল ও ধস ঠেকাতে দিন-রাত ঘুম হারাম করে শ্রম-ঘাম দিয়ে ফসল রক্ষার্থে বাঁধগুলো রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করেন স্থানীয় কৃষকেরা। সোমবার রাত অনুমান সাড়ে ৭টার দিকে লোকমান হেকিম নিজের সুবিধার্থে মৎস্য চাষে জন্য পেতনার বিলে (লোকমানের ফিশারি) পানি ঢোকাতে সংলগ্ন বাঁধটির কিছু অংশ কেটে দেন। পরে পানির চাপে বাঁধের ১২ মিটার ভেঙে পানি প্রবেশ করতে থাকে। খবর পেয়ে এলাকার কৃষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানকে ধাওয়া দেন। চেয়ারম্যান পালিয়ে গেলেও তার মোটরসাইকেলটি পেয়ে রাগে ক্ষোভে ফিশারিতে ফেলে দেয় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা।
মেন্দিপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবু হাকিম জানান, ‘নিজের ফিশারিতে পানি ঢোকাতে লোকমান হেকিম গত ১০-১২ দিন আগেও চেষ্টা করেছিলেন। পরে প্রশাসনকে জানালে বাঁধার মুখে তা আর করতে পারেননি। এবার তিনি বাঁধটি কেটে দিয়ে এলাকাবাসীর রোষানলে পড়েছেন। এছাড়া তিনি (লোকমান) হলেন আওয়ামী লীগের হাইব্রিড নেতা। বিএনপি শাসনামলে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতা এবং তার শ্বশুরবাড়ি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বাড়ি একইস্থানে থাকায় ছিলেন তার ঘনিষ্ঠজন। তিনি দুই শাসনামলে কাকে-কীভাবে ম্যানেজ করে চলেছেন তা এলাকাবাসী ভালো করেই জানে।’
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হেকিমের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিক ফোন দেয়া হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, সোমবার রাত থেকে দিন পর্যন্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাউবোর কর্মকর্তাসহ বাঁধ এলাকায় অবস্থানকালে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা লোকমান হেকিমকে খবর দিয়ে এবং খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
খালিয়াজুরীর নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জেনেছি সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হেকিম তার ফিশারির সুবিধার্থে বাঁধটি কেটেছেন। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে জানান তিনি।’
নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, ‘খালিয়াজুরী ধনু নদীর পাশ থেকে ও মদন এই দুই উপজেলা মিলে ৪৭ কিলোমিটারের এই পেতনা বাঁধটি। বাঁধটি গত বছর করা হলেও ভেঙে যাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। বাঁধের ১২ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানি প্রবেশ করছিল।
তিনি জানান, সোমবার রাত থেকে ২৫০ জন শ্রমিক উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হয়। ফলে দুই উপজেলার কৃষকেরা এখন ঝুঁকিমুক্ত। এ ঘটনায় পাউবোর পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।
