মৌলভীবাজার-চাতলাপুর সড়কের উন্নয়নকাজের বিল নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) দ্বন্দে¦ বেকায়দায় পড়েছেন এলাকাবাসী। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে চার মাস ধরে আংশিক কাজ করা এ সড়কে ধুলোবালি আর কাদায় চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসী, যাত্রী ও পথচারীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার একাংশের সঙ্গে জেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মৌলভীবাজার-চাতলাপুর সড়ক। এই সড়ক ব্যবহার করে ভারতের উত্তর ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে এ সড়কে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে প্রায় ১৫ বছর পর উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে।
সওজ মৌলভীবাজার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪২ কোটি ১০ লাখ টাকায় মৌলভীবাজার-চাতলাপুর সড়কের সাড়ে ২১ কিলোমিটার এলাকার উন্নয়নকাজ পেয়েছিলেন ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কুকিল। কাজের নির্ধারিত সময় ছিল এক বছর। কিন্তু সময়মতো কাজ করতে না পারায় ঠিকাদারের বিল আটকে দেয় সওজ। পুরো কাজ সম্পন্ন করে দিতে ঠিকাদারকে নতুন করে আরও সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদার তার করা কাজের হিসাব ধরে দাবিকৃত বিল না পাওয়ায় মৌলভীবাজার জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। মামলায় আদালত ঠিকাদারের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ রায়ের ওপর উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে টানা প্রায় চার মাস ধরে মৌলভীবাজার-চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়কের উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের পাথর উঠে বেশ কিছু স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কজুড়ে ধুলা জমে গেছে। অতিসম্প্রতি বৃষ্টির কারণে সড়কের ওপরের ধুলোবালি কাদায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় যাতায়াতকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষজনের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাঙাচোরা এ সড়কে আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন বিএএফ শাহীন কলেজে যাতায়াত করছে। ধুলোবালিতে তাদের সর্দি-কাশি হয়ে গেছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কের ম্যাকাডমকৃত পাথরের ওপর কাদা জমে জনদুর্ভোগ বেড়ে গেছে।’
শমসেরনগর বাজারের ব্যবসায়ী সুয়েজ আহমেদ বলেন, ‘সড়কে যানবাহন চলাচলের সময় পুরো এলাকা ধুলোয় ভরে যায়। ধুলো থেকে বাঁচতে ব্যবসায়ীরা দিনে কয়েকবার সড়কে পানি দেন। এখন বৃষ্টির দিনে কাদার মধ্যে সড়ক দিয়ে হেঁটে চলা প্রায় অসম্ভব।’
ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কুকিল বলেন, ‘করোনার শুরুতে সড়কে উন্নয়নকাজ করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। পরে কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারিনি। তবে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে বিল প্রাপ্তির আবেদন করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা কোনো বিল দেয়নি। তাই আমি বাধ্য হয়ে মামলা করেছি। মামলার রায়ও আমার পক্ষে এসেছে।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন বলেন, ‘দুই বছর আগে কাজ পেয়ে ঠিকাদার সময়মতো কাজ সম্পন্ন না করে আংশিক সম্পন্ন করে বিলের আবেদন করেছেন। সময়মতো কাজ সম্পন্ন করলে তার বিল আটকানোর কোনো প্রশ্নই উঠত না। আদালতে ঠিকাদারের পক্ষে হওয়া রায়ের ওপর আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
