ফাঁকা গাবতলী, যাত্রী খুঁজতে বাস কর্মীদের হাঁকডাক

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২২, ০৮:২৪ পিএম

ঈদের ছুটি শুরু হলেও ভিড় দেখা যায়নি ঢাকার বড় বাস টার্মিনাল গাবতলী এবং টেকনিক্যাল ও কল্যাণপুরের কাউন্টারগুলোতে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে পাঁচ কাউন্টারকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের তিন দিনের ছুটির আগে মে দিবস এবং শুক্র-শনি মিলিয়ে মোট ছয় দিনের ছুটি পেয়ে অনেকে ভোগান্তি এড়াতে পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। সে কারণে ছুটি শুরুর পরও উপচে পড়া ভিড় হচ্ছে না।

শুক্রবার সকাল থেকে সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। কোনো কোনো বাসের কর্মীদের হাঁকডাক দিয়েও যাত্রী খুঁজতে দেখা গেল। সেলফি পরিবহনসহ কয়েকটি বাস পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে। তাদের কর্মীরা জানান, অনেক যাত্রী যানজটের কারণে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছেন।

বরিশালগামী সূর্যমুখী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. সারওয়ার বলেন, ‘দূরপাল্লার বাসে সাধারণত রাতেই যাত্রীর চাপ বেশি হয়। সকাল থেকে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও রাত থেকে ভিড় বাড়বে বলে আশা করছি।’

রাত ৮টায়ও সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়েনি যাত্রীদের চাপ। কাউন্টারের সামনেও দেখা যায়নি ভিড়। হানিফ পরিবহনের কর্মী আলম বলেন, ‘এবার মোটরসাইকেলে অনেকে বাড়ি যাচ্ছেন। ফলে বাসে ভিড় কম।’

যাত্রী কম থাকলেও গাবতলীতে অনেক কাউন্টারে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। অভিযোগ শুনে পাঁচ কাউন্টারকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গাবতলীর সেলফি পরিবহনকে ১ হাজার টাকা, শ্যামলী পরিবহনকে ৫০০, সাঁথি এন্টারপ্রাইজকে ১ হাজার, অরিন ট্রাভেলসকে ১ হাজার টাকা ও শ্যামনগর পরিবহনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

এদিকে ভোক্তা অধিকারের অভিযানের পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার জন্য ভিন্ন কৌশল নিয়েছে কাউন্টারগুলো। গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রীদের থেকে সর্বশেষ স্টপেজের ভাড়া আদায় করছে। এতে যে ব্যক্তি বগুড়া যাবেন, তাকে বাধ্য হয়ে জয়পুরহাটের টিকিট কাটতে হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বগুড়া যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে গিয়েছি, বলে যে বগুড়ার টিকিট নাই। পরে জয়পুরহাটের টিকিট কিনেছি ১৫০ টাকা বেশি দিয়ে।’

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন কাউন্টারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় রাস্তায় অনেক যানজট থাকে। তা ছাড়া যাওয়ার সময় যাত্রী বেশি থাকলেও ঢাকার আসার সময় যাত্রী পাওয়া যায় না। এ জন্য অনেকে একটু বেশি আদায় করে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত