টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় বাঁশতৈল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি গত ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জনবল সংকট নিয়ে সেবা কার্যক্রম চলছে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষ থেকে।
উপজেলা সদর থেকে বাঁশতৈল ইউনিয়নের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। বাঁশতৈল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। এই ইউনিয়নের জনসংখ্যা ২৯ হাজার ৭৮১। এ জনসংখ্যার সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গত ১০ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দুটি কক্ষ থেকে চলছে সেবা কার্যক্রম। এখানে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ও ফার্মাসিস্ট নেই। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকেন সপ্তাহে তিন দিন। বাকি দিনগুলো পিয়ন ও আয়া দিয়ে চলে অফিস।
এ ব্যাপারে বাঁশতৈল গ্রামের বাসিন্দা মো. লাল মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিত্যক্ত থাকায় এলাকার মানুষ স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া পরিত্যক্ত ভবনে চলে মাদকসেবীদের আড্ডা।’
অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো) আনন্দময় সরকার বলেন, ‘নিজস্ব কর্মস্থল গোড়াইতে দায়িত্ব পালনের পর বাঁশতৈলে যেতে হয়। ওখানে জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক কক্ষ না থাকায় স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
বাঁশতৈল ইউপি চেয়ারম্যান মো. হেলাল দেওয়ান বলেন, ‘ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় পরিষদের দুটি কক্ষ থেকে সেবা কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. সুহেলী শারমিন বলেন, ‘২০১২ সালে বাঁশতৈল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি জরাজীর্ণতার কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনটির নিলাম ও নতুন ভবন নির্মাণের কার্যক্রম অনেকদূর এগিয়েছিল। মহামারী করোনার কারণে সেই কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ে।’ করোনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হওয়ায় কার্যক্রমটি আবার এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
