ব্রি-২৮ ধান চাষে দিশেহারা কৃষক, আগামীতে আবাদ না করার ঘোষণা

আপডেট : ০৫ মে ২০২২, ০৩:১২ পিএম

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় এ বছর বোরো আবাদে ব্রি-২৮ জাতের ধানে নেক ব্লাস্ট (শিষ মরা) রোগের আক্রমণে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অধিক ব্যয়ে কৃষকেরা ব্রি-২৮ ধান আবাদ করলেও এই রোগের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানকার চাষিরা। তারা বলছেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শেও ধানের শিষ মরা রোগ ঠেকাতে পারেননি।  

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ করতে সব মিলিয়ে ব্যয় হয় ৮-৯ হাজার টাকা। এদিকে ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন হতো ১৮-২০ মণ। সেখানে এই ব্লাস্ট (শিষ মরা) রোগের কারণে বিঘাতে ১০ মণও হবে না ধান। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে আর ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ করবেন না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে। তাদের তথ্যমতে, এই ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে ৭-৮ হেক্টর জমির ব্রি-২৮ জাতের ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নেক ব্লাস্ট (শিষ মরা) রোগে ব্রি-২৮ জাতের ধান চিটা হয়ে যাওয়ার এমন চিত্র দেখা গেছে।

image

কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া গ্রামের আব্দুল খালেক নামের এক কৃষক বলেন, আমি ১ বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ ধান লাগাইছি। বেশ অর্ধেক নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রকার ওষুধ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। কৃষি বিভাগও জানেনা এই রোগের চিকিৎসা। এবার যা হইছে ভবিষ্যতে আর আমি ব্রি-২৮ ধান আবাদ করবো না। এক এক করে ২-৩ বার মাইর খাইলাম আর না।

একই এলাকার কফিয়াল বলেন, আমিও ১৬ শতক জমিতে ব্রি-২৮ ধান লাগাইছি। ধান হয় নাই, শুধু চিটা আর চিটা। যেসময় এই রোগটা হয় অনেকের সাজেশনে কত প্রকার ওষুধ যে জমিতে প্রয়োগ করছি কোনো কাজ হয় নাই। কৃষি বিভাগের লোকজনও আমাদের কোনো উপকার করতে পারে নাই। গত ২-৩ বছর থেকে ব্রি-২৮ ধান চাষ করে ক্ষতি হচ্ছে। এবারেই যা আবাদ করছি, আর না।

কাশেম আলী নামের আরও এক কৃষক বলেন, আমিও এক বিঘা জমিতে ২৮ ধান চাষ করছি। আমারও জমির ধানে এই রোগ ধরছে। ধানে এই রোগ হলে গরু-ছাগলও এই খড় খেতে চায় না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, আপনারা জানেন ব্রি-২৮ ধান আগাম চাষ করা হয়। যখন ফলন আসে সেসময় বৃষ্টির কারণে বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গায় ক্ষতি হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ৭-৮ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু কৃষকেরা যদি সময় মত নেক ব্লাস্ট রোগের ঔষধ প্রয়োগ করতো তাহলে ক্ষতিটা কম হতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত