রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভিজিএফের চাল পাচারের দায়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে তালাবদ্ধ করে রাখল গ্রামবাসী

আপডেট : ০৫ মে ২০২২, ০৮:৩২ পিএম

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় হতদরিদ্রদের মাঝে সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ-এর চাল কালোবাজারে পাচার ঠেকিয়ে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নীলফামারী থানা-পুলিশ একটি পিকআপ-সহ ৫০ বস্তা চাল জব্দ করে সদর থানায় নিয়েছে। সেখানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কেজি চাল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আটকের সময় চালক থাকলেও সঙ্গে থাকা অপর এক ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই চালগুলো পিকআপ-সহ আটক করে এলাকাবাসী জেলা শহরের হাজী মহসীন সড়কের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে।

অভিযোগে জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে সরকারিভাবে ঈদের আগে ৫ হাজার ২১৩টি কার্ডের জন্য প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে মোট ৫২ দশমিক ১৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়। সে চাল ২৮ এপ্রিলের মধ্যে বিতরণের শেষ সময় ছিল।

কার্ডধারীদের অভিযোগ, সেখানে চাল বিতরণের সময় কার্ডধারীদের ১০ কেজির পরিবর্তে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুম ৭ কেজি করে চাল বিতরণ করছিলেন। যার প্রতিবাদ করে এলাকার মানুষজন। সে সময় প্রতিবাদকারী বেশ কয়েকজনকে ইউপি চেয়ারম্যানকে ইউনিয়ন পরিষদের ঘরে তালা গিয়ে আটকিয়ে রাখে। খবর পেয়ে সৈয়দপুর ইউএনও এবং পুলিশ গিয়ে আটককৃতদের উদ্ধার করে ও চাল বিতরণ স্থগিত রাখেন।

অভিযোগ মতে, চাল বিতরণ স্থগিত করার আগে ইউপি চেয়ারম্যান প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কার্ডের চাল কথিতভাবে বিতরণ দেখায়। পরে ইউপি সচিবের মাধ্যমে বাকি চাল বিতরণ করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোরে সরকারি চালের বস্তা পাল্টিয়ে একটি পিকআপে ৫০ বস্তা চাল অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বেলা ১২টার দিকে পুনরায় একই পিকআপে আরও ৫০ বস্তা চাল সরিয়ে ফেলানো হচ্ছিল। বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী উক্ত পিকআপটির পিছু নিয়ে নীলফামারী শহরে এসে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

পরে নীলফামারী এসিল্যান্ড ও পুলিশ গিয়ে পিকআপটির চালককে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সেই চাল জব্দ করে সদর থানায় নেয়।

পিকআপ চালক মিজানুর রহমান জানায়, আমাকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে বস্তাগুলো বড় বাজার এলাকায় পৌঁছিয়ে দিতে বলেছে। বস্তায় থাকা চাল কিসের আমি জানি না। সঙ্গে থাকা লোকটির সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে চালক বলে, আমি তাকে চিনি না। চালের বস্তা ও লোকটিকে বড় বাজারে নামিয়ে দিতে বলা হয়েছিল।

নীলফামারী সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ উন নবী জানান, চালের ট্রাকটি থানায় এনে রাখা হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বোতলাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত