রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হাওরে ফসলের সঙ্গে ডুবেছে কৃষকের ঈদ আনন্দ

আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ১২:৩০ এএম

‘পেঠে ভাত কেমনে দিমু, বাইচ্চরারে কেমনে ফালমু এই চিন্তায় আর ঈদের চিন্তা মাথায় আসে না। দেনা করে ফসল লাগাইছিলাম, সেই ধান পানিতে ভাইস্যা গেছে, এখন দেনা কেমনে শোধ করমু আর কেমনে বাঁচমু চিন্তা কইরা কোন কূল পাই না। এর উপর ঈদে বাইচ্চা জামা কাপড়ের লাগি কান্না করে কিন্তু কি করব, কোনো উপায়তো নাই।’ এমন আক্ষেপের কথা বলছিলেন টাঙ্গুয়ার হাওর পারের কৃষক কামাল মিয়া।

টাঙ্গুয়ার হাওর পারের কৃষক কামাল মিয়া এক চোখে দেখতে পান না। অন্য চোখেও ঝাপসা দেখেন। এবার সংসারের ঘানি টানতে স্ত্রীকে নিয়ে হাওরে দেড় কেয়ার জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু গেল ২ এপ্রিল উজানের ঢলে সব ফসল পানিতে তলিয়ে যায়, কোনো ধান ঘরে তুলতে পারেননি। ৫ সন্তানসহ ৭ জনের সংসারে পুরো বছর কীভাবে কাটাবেন সেই চিন্তায় যখন দিশেহারা ঠিক এমন সময় ঈদটা তার কাছে এখন আরও বেশি কষ্টের। দেনা শোধ আর ৫ সন্তানের মুখে ভাত দেওয়ার চিন্তাতেই দিশেহারা এই কৃষক পরিবার।

এমন ঘটনা এখন হাওরের বেশিরভাগ কৃষকের। যেখানে বৈশাখে কৃষকের ঘরে ধান আর ঈদ উদযাপনে বাড়তি আনন্দ থাকার কথা ছিল পুরো হাওরে, সেখানে পাহাড়ি ঢলে ফসল হারিয়ে হাহাকার চলছে হাওরের কৃষক পরিবারে। বাচ্চাদের নতুন কাপড় আর ঘরে ভালো খাবার রান্নার পরিবর্তে সারা বছরের খোরাক, সংসার, আর দেনা শোধ করার চিন্তা এখন কৃষকের মাথায়। তাই ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে হাওর জনপদে।

ঈদ আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি হাওরে ফসল হারানো ২০ হাজার কৃষক পরিবারে। বৈশাখে কৃষকের ঘরে ধান যেখানে হাওরে ঈদ উদযাপনে আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা সেখানে হাওরজুড়ে এখন কৃষকদের মধ্যে হাহাকার। সন্তানদের ঈদের নতুন জামাকাপড় কিংবা পরিবারে ঈদ ঘিরে সামান্য আয়োজন করতে না পারায় কষ্টের যেন শেষ নেই হাওরের কৃষকদের।

দিরাইয়ের চাপতির হাওরের কৃষক খসরু মিয়া বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে এবার ফসল করেছিলাম। বৈশাখ আর ঈদ একই সময়ে হওয়ায় ভেবেছিলাম ঈদটা এবার বেশি আনন্দে কাটাব। কিন্তু পানিতে সব ভাসাইয়া নিলো।’

একই হাওরের কৃষক আব্দুস ছাত্তার বলেন, প্রতি বছর ঈদ এলেই পরিবারের সবাইকে নতুন জামা কাপড় দিই, ঘরে বিভিন্ন পিঠার আয়োজন থাকে। কিন্তু এবার শুধু ভাত খাওয়ার চিন্তায় আছি। এখনো ঘরে একটা ধান তুলতে পারিনি, তাই ঈদটা এখন আমাদের কাছে বাড়তি কষ্টের।’

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার। ইতিমধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা দেওয়া শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত গেল ২ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত উজানের ঢলে হাওরে ৩০টির বেশি বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়েছে ২০ হাজার হেক্টরের বেশি বোরো ফসল। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এতে ২০ হাজার কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ অন্তত শতকোটি টাকা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত