চট্টগ্রাম বন্দরের এমপিবি ২ নম্বর গেট, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা। সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় বন্দরের এ গেট দিয়ে আধা ঘণ্টায় বের হলো মাত্র একটি কন্টেইনারবাহী গাড়ি। অথচ অন্যান্য দিনে একই সময়ে গেট দিয়ে কন্টেইনারবাহী গাড়ির সারি পড়ে যেত।
বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বরতরা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটি শুরুর পর বন্দর থেকে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার ডেলিভারি কম হচ্ছে। আগামীকাল রবিবারের আগে ডেলিভারির গতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে কন্টেইনারের জট আরও বাড়বে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দিনে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টিইইউস (টোয়েন্টি ফিট ইক্যুইভ্যালেন্ট ইউনিটস) কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। তবে প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে লম্বা ছুটির কারণে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার মে দিবস, ঈদ ও সাপ্তাহিক মিলিয়ে টানা নয় দিনের ছুটি পেয়েছেন কর্মজীবীরা। যে কারণে বন্দর-কাস্টমস ঈদের ছুটিতে খোলা থাকলেও আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় পণ্য ডেলিভারির গতি মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ১ মে ঈদের ছুটি শুরুর দিনে বন্দরে কন্টেইনার ডেলিভারি হয় ১ হাজার ৬৮ টিইইউসে। ২ মে তা একবারে এসে ঠেকে ২২৭ টিইইউসে। ৩ মে ঈদের দিন কোনো ডেলিভারি হয়নি। ঈদের পরদিন ৪ মে ডেলিভারি হয় মাত্র ৭০৫ টিইইউস কন্টেইনার। সব মিলিয়ে চার দিনে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার ডেলিভারির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৯০ টিইইউস। অথচ স্বাভাবিক সময়ে চার দিনে কন্টেইনার ডেলিভারি হতো ১৬ থেকে ১৮ হাজার টিইইউস।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছুটির কারণে ডেলিভারির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে কন্টেইনার বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্দরে ৩৯ হাজার ৪১১ টিইইউস কন্টেইনার জমা রয়েছে। গতকাল ও আজ শনিবার দুদিনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের সময় সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোদমে চালু ছিল। এ সময় রপ্তানি পণ্য যেমন জাহাজীকরণ হয়েছে, তেমনি জাহাজ থেকে আমদানি পণ্যও খালাস হয়েছে। আমরা আগেই ডেলিভারি স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারকদের অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা পণ্য ডেলিভারি না নেওয়ায় বন্দরে কন্টেইনারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আশা করছি, রবিবার থেকে ডেলিভারির গতি বৃদ্ধি পাবে, কন্টেইনারও কমে আসবে।’
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘বছরে মাত্র দুই ঈদে কর্মজীবীরা একটু লম্বা ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটান। এতে বাদ সাধা ঠিক হবে না। ঈদ ছুটিকে স্বাভাবিক ধরে নিয়ে বন্দরের পরিকল্পনা সাজাতে হবে। ছুটি প্রায় শেষ, দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে।’
বন্দর সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে মোট জাহাজের সংখ্যা ছিল ৯৩টি। এর মধ্যে ২৮টি রয়েছে কন্টেইনার জাহাজ। এ সময় নয়টি জাহাজ থেকে বন্দর জেটিতে কন্টেইনার খালাসের কাজ চললেও ১৯টি কন্টেইনার জাহাজ বহির্নোঙরে বার্থিংয়ের অপেক্ষায় ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে আরও কন্টেইনার জাহাজ বন্দরে আসার পথে রয়েছে বলে জানা গেছে।
