মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম মিশন-ভিশন আশ্রয়ণ প্রকল্প। গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্প জোরেশোরে চলছে, একই সময়ে এক আওয়ামী নেতার বাধার মুখে পড়ে গরিব অসহায় এক ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ ঘর নির্মাণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
লক্ষ্মীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ৭০ বছরের বৃদ্ধ নূর নবীর বসতঘর নির্মাণে বাধা ও নাটকীয় মামলা দিয়ে কাজ বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ্ আলম ও তার বড়ভাই গ্রামপুলিশ সদস্য বশির উল্লাহর বিরুদ্ধে।
মামলার রায় বৃদ্ধের পক্ষে ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের লিখিত অনুমতি পেয়েও আওয়ামী লীগ নেতার আতঙ্কে ঘরের কাজ করতে পারছেন না বৃদ্ধ নূর নবী।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা কুশাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বৃদ্ধ নূর নবী এক জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন স্ত্রী মোফাশ্বারা বেগমকে নিয়ে। জরাজীর্ণ ঘরটির সামনে একটি নতুন ঘর করতে গেলে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শাহ্ আলম তার দুই ভাই গ্রামপুলিশ বশির উল্লাহ ও স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বাধা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭০ বছর বয়সী নূর নবী মদনা গ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে পৈতৃক ভিটাতে বসবাস করে আসছেন।
গত মার্চ মাসের ২৩ তারিখে আওয়ামী লীগ নেতা শাহ্ আলম লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম কোর্ট) আদালতে একটি (১৪৪ ধারা) মিছ মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময় আদালত দীর্ঘদিন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে (১৪৪ ধারা) প্রত্যাহার করেন। আদালতের রায় পেয়েও ঘরের কাজ করতে পারছেন না ওই বৃদ্ধ।
বৃদ্ধের ছেলে মহিউদ্দিন বলেন, ‘বাপদাদার ভিটেমাটিতে বাবা-মাকে একটি নতুন ঘরে করে দিচ্ছি। হঠাৎ শাহ্ আলম ও তার দুই ভাই তাদের সম্পদ দাবি করে ঘরের কাজ বন্ধ করে দেয়। ইউনিয়ন পরিষদ ও আদালতে মামলা করলে রায় আমাদের পক্ষে আসে। তারা যে দাগ উল্লেখ করে মিছ মামলা দায়ের করে, ওই দাগ ভিন্ন দাগ তাই আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে স্থিতিশীল প্রত্যাহার করে। তবুও আমরা আওয়ামী লীগ নেতা ও গ্রামপুলিশের দাপটে খুব অসহায়। কাজ করতে গেলে তারা আমাদের হামলা করতে আসে।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শাহ্ আলম বলেন, আমাদের খরিদ করা জমিতে তারা ঘর করতে গেছে, তাই বাধা দিলাম।
কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিক জানান, বিরোধ দেখা দিলে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়। এ ছাড়া ঘর করার জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে বলা হয়েছে।
দাসেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মফিজ উদ্দীন জানান, সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা জন্য বলা হয়েছে। যদি কেউ ফৌজদারি অপরাধ করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
