রাজধানীর বনানী এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রফেরত প্রবাসীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম শেখ শোয়েব সাজ্জাদ (৪৪)। গত ৩০ এপ্রিল তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১ মে শোয়েবের বড় ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদ ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় শোয়েবের স্ত্রী সাবরিনা শারমিন (৩০) ও তার বন্ধু কাজী ফাহাদকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সাবরিনা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ফাহাদকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বাড়ি কুমিল্লায়।
শোয়েব সাজ্জাদ আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাসলিমা আক্তার জানান, মামলা হওয়ার পর রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাজী ফাহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সাবরিনাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে শোয়েবকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেখ শোয়েব সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ওই দেশের নাগরিক। অনলাইন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজানে চাকরি করতেন তিনি। তাদের দাবি, কাজী ফাহাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান সাবরিনা। এতে বাধা দেওয়ায় ফাহাদ ও সাবরিনা প্রতিনিয়ত সাজ্জাদকে মানসিক নির্যাতন করতেন। যার মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাবরিনার স্বজনরা জানিয়েছেন, সাবরিনার অভিযোগ ছিল শোয়েব তাকে সময় দিতেন না, বন্ধুবান্ধবকে বেশি সময় দিতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।
মামলার এহাজার অনুযায়ী, শোয়েব সাজ্জাদের বাবার নাম শেখ তৌফিক আহমেদ। তারা ওয়ারীতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় সূত্রে সেখানেই ২০১৭ সালে শোয়েব ও সাবরিনার বিয়ে হয়। এটা দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। সাবরিনার আগের সংসারের একটি মেয়ে রয়েছে। ২০১৮ সালের মে মাসে সাবরিনা একা দেশে ফিরে শ^শুরবাড়ি পুরান ঢাকার ওয়ারীর ১৯১ নম্বর বাসার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন। ওই সময় পাশের বাসার ভাড়াটে কাজী ফাহাদের সঙ্গে পরিচয় হয় সাবরিনার।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে সাবরিনা ও ফাহাদ অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জেনে গেলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। সাবরিনার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে শোয়েবের সঙ্গে ফোনে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিকভাবে ফাহাদকেও সতর্ক করা হয়। তারপরও তারা অনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখে, বিভিন্ন অজুহাতে ফাহাদ সাবরিনার ফ্ল্যাটে আসতেন। এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ মার্চ দেশে আসেন শোয়েব। পরে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর শাখাওয়াত হোসেনের বনানীর ডিওএইচএসের বাসায় বসবাস শুরু করেন। শোয়েবের মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট সাবরিনা নিজের কাছে রাখতেন। সেগুলো ফেরত না দিয়ে ও না বলে সাবরিনা গত ১৫ এপ্রিল বাসা থেকে চলে যান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শোয়েবের বড় ভাই এজাহারে বলেন, শোয়েবের শ^শুর সাখাওয়াত হোসেন তাকে জানান যে ৩০ এপ্রিল বাসায় দুজন গৃহপরিচারিকা ও একজন গৃহপরিচারক ছিলেন। গাড়িচালক নিচে ছিলেন। ইফতারের ১০ মিনিট আগে গৃহপরিচারিকা শোয়েবকে ইফতারের জন্য ডাকতে থাকেন। অনেকক্ষণ তার কোনো সাড়া না পেয়ে ওই কক্ষের বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে শোয়েবকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেন।
