‘মন্ত্রীর সুনজরে আসতে টিটিইকে তড়িঘড়ি বরখাস্ত করেন ডিসিও’

আপডেট : ০৮ মে ২০২২, ০৫:৪২ পিএম

রেলমন্ত্রীর তিন আত্মীয় ট্রেনযাত্রীকে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করায় মন্ত্রীর স্ত্রীর ফোন পেয়ে পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন তড়িঘড়ি করে টিটিই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করেন বলে রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

এ জন্য ডিসিওকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ সংক্রান্ত চিঠিও ইস্যু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম।

রবিবার এ ঘটনা তদন্তের শুরুতে টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে তদন্তের মেয়াদ আগামী বুধবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

রবিবার দুপুর ১২টার দিকে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম তার কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট এ কথা জানান।

আলোচিত এ ঘটনায় অভিযুক্ত, অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে রবিবার সকাল ১০টা থেকে তদন্ত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পাকশীতে মন্ত্রীর স্ত্রীর বোনের ছেলে ইমরুল কায়েস প্রান্ত গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলতে কৌশলে কালক্ষেপণ করেন। ফলে ১০টার পরিবর্তে দুপুর ১২টার পরে পাকশী বিভাগীয় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তার (এটিও) কার্যালয়ে তদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সময় প্রান্তর বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের নিকট এ মুহূর্তে বক্তব্য দেবেন না বলে জানান। তিনি বলেন, তদন্তের পর বক্তব্য দেওয়া যেতে পরে। এর পরপরই তিনি পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কন্ট্রোল রুমে কিছু সময় অবস্থান করেন।

এদিকে এসব ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক তদন্তের শুরুতেই ঘটনার রাতে আন্তনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে কর্তব্যরত ট্রেন পরিচালক শরিফুল ইসলামের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলাম বাবু জানান, তদন্তের প্রথম দিনে আজ ৮ জনকে ডাকা হয়েছে। এরা হলেন অভিযুক্ত, অভিযোগকারী ও ওই ট্রেনে কর্তব্যরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কারণ দর্শানোর নোটিশসহ এসব বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রীর সুনজরে এসে পদোন্নতি পাওয়ার জন্যই মন্ত্রীর স্ত্রীর ফোন পেয়েই পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তড়িঘড়ি করে টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্ত আদেশ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত