সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে (২০) দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলার ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
বুধবার সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক চৌধুরীর আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এ ঘটনায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে দায়ের মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল গত বছরের ১৭ জানুয়ারি। তবে ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। এখন দুই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ একসঙ্গে চলবে বলে জানিয়েছে আদালতসূত্র।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি রাশিদা সাঈদা খানম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে অভিযুক্ত ৮ আসামি উপস্থিত ছিলেন। ধর্ষণ মামলা এবং চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের মামলার বিচারকাজ একসঙ্গে চলবে।
তিনি আরও জানান, মামলা দুইটির বিচারকাজ একসঙ্গে শুরুর জন্য বাদীপক্ষ গত বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরে বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে গেলে উচ্চ আদালত গত ৭ ফেব্রুয়ারি মামলা দুইটি একসঙ্গে একই আদালতে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেয়।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের টিলাগড় এলাকায় অবস্থিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তার তরুণী স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে সিলেটের শাহপরান থানায় ৬ আসামির নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এ ছাড়া ঘটনার পর এমসি কলেজ ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির আইনে আরেকটি মামলা করে। দেশব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ ঘটনার ৩ দিনের মধ্যে ৮ আসামিকেই গ্রেপ্তার করে র্যাব ও পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। গ্রেপ্তারের পর ৮ আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে উভয় মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
উভয় মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।
অভিযুক্ত ৮ আসামিই বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন।
