পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

দুই চিকিৎসকের দ্বন্দ্বে লাখো রোগীর ভোগান্তি

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ১০:২১ পিএম

দুই চিকিৎসকের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ভেঙে পড়েছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এছাড়া জেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জরুরি ও জটিল চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীর বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ রোগীদের। অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অপমান, এমনকি মারধরের শিকারও হয়েছেন অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ডা. ওমর ফারুক মীর। ঈদুল ফিতরের আগে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা, সময়মতো উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সহকারী পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরে ঈদের ছুটির পর চিকিৎসক-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা না করার নির্দেশনা দিয়ে লিখিত সতর্কবার্তা পাঠান সহকারী পরিচালক।

এরপরই স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পাবনা জেলা সাধারণ সম্পাদক হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক জাহেদী হাসান রুমীর নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি অংশ সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক মীরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ৮ ও ৯ মে অফিস করতে বাধা দেয়। নিজ কক্ষের সামনে লাঞ্ছিতও হন সহকারী পরিচালক। পরে সিনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থন না পেয়ে একপর্যায়ে তালা খুলে দেন স্বাচিপ নেতারা। স্বাচিপ নেতাদের বিরোধিতা ও অসহযোগিতার কারণে এখনো প্রশাসনিক শৃংখলা স্বাভাবিক হয়নি। এর প্রভাব পড়ছে চিকিৎসা কার্যক্রমেও। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।

স্বাচিপ পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. জাহেদী হাসান রুমী অভিযোগ করেন, ডা. ওমর ফারুক মীর হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এতে হাসপাতালের সব কাঠামো ভেঙে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক জানান, পাবনার স্থানীয় বাসিন্দা ও দলের নাম ভাঙিয়ে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কর্তব্যে অবহেলা করে আসছেন। হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধ কোম্পানি থেকে সুবিধা নেন তারা। হাসপাতালে দায়সারা দায়িত্ব পালন করেন। কখনো কখনো বায়োমেট্রিক উপস্থিতি মেশিনে হাজিরা দিয়েই আবারও বাইরে চলে যান। অতীতের কোনো সহকারী পরিচালকই তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। দীর্ঘদিন একই হাসপাতালে চাকরি করায় তারা কারও কথার তোয়াক্কা করেন না। সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীরও প্রশাসনিক কাজে কৌশলী নন। ফলে নানা বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে গত মঙ্গল ও বুধবার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা মেলে ভোগান্তির নানা চিত্র। মঙ্গলবার সকালে অস্ত্রোপচার হওয়া ভাঙা পা নিয়ে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য ডা. জাহেদী হাসান রুমীর কাছে ঈশ^রদী থেকে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রুহুল আমিন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে চিকিৎসকের ফোন নাম্বার চাইলে তিনি মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ রুহুলের।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদী হাসান রুমী বলেন, কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ সত্য নয়। অপারেশনে ব্যস্ত থাকায় অনেক সময় রোগী দেখতে দেরি হয়।

সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীর বলেন, জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও সেখানে গড়ে হাজারেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকে। সীমিত জনবল দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনায় নানা ধরনের অসুবিধা হয়। আশা করছি চিকিৎসকদের ভুল বোঝাবুঝি দ্রুতই কেটে যাবে। সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করলে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত