খুলনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রীকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার দুপুরে খুলনা মহানগরীর ৯ নম্বর ছোটমির্জাপুর রোডের কাগজী হাউস নামক বাড়ির নিচতলার একটি পত্রিকা অফিসে এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। ওই কলেজছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করা হয়েছে। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত পিবিআই খুলনার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আহসান মাসুদকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কলেজছাত্রীর বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায়। তিনি ২০২১ সালে সরকারি বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন। ফেসবুকের ছবি সংক্রান্ত একটি সমস্যা নিয়ে পাঁচ দিন আগে পিবিআই ইন্সপেক্টর মাসুদের কাছে আসেন তিনি। এ সুবাদে তাকে সহযোগিতা করার কথা বলে পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ ছোটমির্জাপুর রোডের কাগজী হাউসের ওই পত্রিকা অফিসের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী খুলনা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। এরপর ভুক্তভোগীকে নিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (সাউথ) সোনালী সেন, সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) ইয়াজিদ ইবনে আকবর ও খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় অফিসটি তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশ কর্মকর্তারা তালা ভেঙে অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, মহানগরীর ৯ নম্বর ছোটমির্জাপুর রোডের কাগজী হাউজের ওই বাড়িতে ‘ইনকিলাব’ নামে একটি পত্রিকার অফিস রয়েছে। তবে, ঘটনার সঙ্গে পত্রিকার কেউ সম্পৃক্ত আছে কি-না সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে ওই কলেজছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য খুমেক হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় দৈনিক ইনকিলাবের খুলনা ব্যুরো প্রধান ডি এম রেজা সোহাগ বলেন, এক বছর আগে দৈনিক ইনকিলাবে যে দুজন কর্মরত ছিলেন তাদের কর্তৃপক্ষ অব্যাহতি দিয়েছে। এ ছাড়া ওই সময় অফিসটিও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওখানে ইনকিলাবের কোনো অফিস নেই। এ ছাড়া ধর্ষণের ঘটনাটিও আমি জানি না।
ইনকিলাবের অপর প্রতিনিধি আবু হেনা মুক্তি বলেন, বটিয়াঘাটার মাছ ব্যবসায়ী হাসান তারেক জাকির ও বাচ্চু আলী বেগ নামে দুজনের সঙ্গে তারা যৌথভাবে অফিস ভাড়া নেন। এক পাশে ইনকিলাবের অফিস অন্য পাশে তারা বসতেন। তিনি খুলনার বাইরে থাকায় হাসান তারেক জাকির পিবিআই ইন্সপেক্টর মাসুদসহ ওই মেয়েকে নিয়ে অফিসে যান বলে তিনি শুনেছেন। তবে, জাকিরের ফোন বন্ধ থাকায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
