চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসাছাত্রীর (১৪) মা তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে মামলা করতে গেলে তা না নিয়ে ‘নিখোঁজ’ হয়েছে বলে সাধারণ ডায়েরিভুক্ত (জিডি) করার। ওই ছাত্রী মিরসরাই উপজেলার সুফিয়া নূরীয়া ফাযিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় বখাটে ফিরোজ খান ওরফে মাসুম (২০) তাকে অপহরণ করেছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার। গতকাল রবিবার সকাল ৯টায় উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিম মিঠানালা গ্রামে অপহরণের এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের দাবি। ফিরোজ খান একই গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।
এদিকে, এ ঘটনায় মিরসরাই থানায় ওই শিক্ষার্থীর মা অপহরণ মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলার বদলে নিখোঁজ ডায়েরি নিয়ে তাদের পাঠিয়ে দেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফিরোজ খান মাসুমের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে ওই শিক্ষার্থীর মা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালতে ফিরোজ ওরফে মাসুমকে আসামি করে মামলা করেন।
ওই শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, দুই বছর ধরে বখাটে ফিরোজ খান প্রকাশ মাসুম তার মেয়েকে মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত, প্রেমের প্রস্তাব দিত। বাড়ির আশপাশে দিনে-রাতে অনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘুরাফেরা করত। বাড়িতে ও পুকুর ঘাটে গোপনে অপ্রস্তুত অবস্থায় তার মেয়ের ছবিও তুলে কয়েকদিন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ফিরোজ খানের বাবাকে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি।
সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল রাত ৯টায় তার মাদ্রাসাছাত্রী মেয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে ফিরোজ খান তার মুখ চেপে ধরে বাড়ির পার্শ^বর্তী বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরদিন সকালে ফিরোজ খানকে জিজ্ঞেস করলে সে তাকে রাতে নিয়ে ধর্ষণ করার বিষয়টি স্বীকার করে।
ওই ছাত্রীর মা বলেন, এসময় সে তার সঙ্গে আমার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
তিনি আরও বলেন, আদালতে মামলা করার পর ফিরোজ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত শনিবার রাতে সে আমাদের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। অন্যথায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এরপর রবিবার সকাল ৯টা থেকে আমার মেয়েকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
অপহরণ মামলা না নিয়ে নিখোঁজ জিডি নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মিরসরাই থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, অভিযোগকারীদের আবার থানায় পাঠান, আমি দেখব। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
