পটুয়াখালীতে লবণসহিষ্ণু সূর্যমুখীর আবাদ বাড়ছে

আপডেট : ২১ মে ২০২২, ০১:০৮ এএম

অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন ও লবণসহিষ্ণু হওয়ায় পটুয়াখালীতে কৃষক পর্যায়ে বাড়ছে সূর্যমুখী চাষের আবাদ। বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ বৃদ্ধি এবং স্বল্প সুদের ঋণসুবিধা পেলে আরও বেশি জমি আসবে সূর্যমুখী চাষের আওতায়। এতে উপকূলীয় এ জেলার কয়েক হাজার হেক্টর এক ফসলি জমি হবে দু’ফসলি। কমবে ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা। উপকূলীয় এ জনপদের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

দুই বছর আগেও উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কয়েক হাজার হেক্টর বিস্তীর্ণ জমি আমন চাষের পর পড়ে থাকত অনাবাদি হয়ে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতাসহ নিবিড় তত্ত্বাবধানে জেলার এসব এক ফসলি জমিতে এখন হচ্ছে সূর্যমুখীর আবাদ। লবণসহিষ্ণু হওয়ায় কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ বাড়ে চাষের। অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় উচ্চ ফলনে খুশি চাষিরাও। এবার ভালো মুনাফার আশা করছেন এসব সূর্যমুখী চাষি। চাহিদা থাকায় বাজারজাতকরণ খুবই সহজ। তবে স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় ভোজ্য করা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন চাষিরা।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষক পর্যায়ে তৈল জাতীয় ফসল চাষে আগ্রহ বাড়াতে চলতি মৌসুমে জেলার ৫৫০ হেক্টর এক ফসলি জমিতে হয়েছে লবণসহিষ্ণু জাতের সূর্যমুখীর চাষ। জেলার দুই হাজার কৃষককে সূর্যমুখী চাষ ও পরিচর্যার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কৃষকদের বীজ ও চাষ উপকরণ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে সূর্যমুখী চাষে, যা থেকে প্রায় ৭০০ টন তেল উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।   

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, গত বছর জেলার কলাপাড়া উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর এক ফসলি জমিতে চাষ হয়েছে সূর্যমুখীর। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৫০ শতক করে ৩৪টি প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে চাষ করা হয়েছে। এজন্য ৬০০ কৃষককে দেওয়া হয়েছে প্রণোদনা। এ ছাড়াও উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে ১০ একর জমিতে সমবায়ী ভিত্তিতে কৃষক দল গঠন করে চাষ হয়েছে সূর্যমুখী। এতে সফলতা মিলেছে ভালো। সীমিত মাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহার হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। এ ছাড়াও কম শ্রম, কম ফসলহানি, কম পরিচর্যায় কৃষক পাবেন অধিক ফলন ও মুনাফা। কৃষকদের মাঝেও বাড়ছে সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক আগ্রহ।

টিয়াখালী গ্রামের সূর্যমুখী চাষি জেসমিন বেগম বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মিষ্টি পানির। এর সংরক্ষণ বাড়ানো গেলে আরও বেশি ফলন সম্ভব। চাষি রফিক ও বেলাল বলেন, এখন সমস্যা হচ্ছে বীজ সংগ্রহ এবং বীজ থেকে তৈল আহরণ। আধুনিক মেশিন দিয়ে যদি সহযোগিতা করা যেত, তবে আরও বেশি জমি আগামীতে চাষ করব। 

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ বলেন, ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে এ নিয়ে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি, আগামী মৌসুমে কয়েক গুণ বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ হবে। তিনি আরও বলেন, খাদ্যশক্তিতে ভরপুর সূর্যমুখী তেল অনেক রোগের মহাঔষধ, এটি কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে রাখে, ক্যানসার প্রতিরোধসহ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এই তেল ঘিয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভোক্তা পর্যায়েও এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সূর্যমুখীর বীজ সংগ্রহ, তেল আহরণের জন্য কৃষক পর্যায়ে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত