রবিনসন নৈপুণ্যে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। এএফসি কাপের ‘ডি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে গোকুলাম কেরালাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে অস্কার ব্রুজনের শিষ্যরা।
এই জয়ে এএফসি কাপের ইন্টার জোনাল প্লে-অফ সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল বসুন্ধরা কিংস। তবে তাদের তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে মঙ্গলবার রাত ৯টায় শুরু হতে যাওয়া মোহনবাগান বনাম মাজিয়ার ম্যাচের দিকে।
দুই দলের ম্যাচটি যদি ড্র হয় তবে গ্রুপ পর্বের সেরা দল হিসেবে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করবে কিংস। তবে ঘরের মাঠে সল্ট লেক স্টেডিয়ামে যদি মালদ্বীপের মাজিয়াকে হারাতে পারে তবে ব্রুজনের শিষ্যদের হৃদয় ভেঙে ইন্টার জোনাল প্লে-অফ সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে মোহনবাগান।
৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত গ্রুপের তালিকায় শীর্ষস্থানে বসুন্ধরা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে কেরালা। আসর থেকে ছিটকে গেছে তারা। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে মাজিয়া। সমান পয়েন্ট নিয়ে চারে মোহনবাগান।
রাতে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি জিতলে তাদের পয়েন্টও হবে ৬। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পরের রাউন্ডের আশায় মোহনবাগান। সেক্ষেত্রে সুযোগ থাকছে মাজিয়ারও। মোহনবাগানকে যদি তারা হারাতে পারে আর গোল ব্যবধানে বসুন্ধরার চেয়ে এগিয়ে থাকে তবে পরের রাউন্ডে যাবে মালদ্বীপের ক্লাবটি।
কঠিন সমীকরণকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সল্ট লেকে কেরালার মুখোমুখি হয় বসুন্ধরা। যারা কিনা আগের ম্যাচে মোহনবাগানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে হেরেছে। আর প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হারিয়েছে মাজিয়াকে। এবার ‘বাঁচা-মরা’র ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেখালো ব্রুজনের দল। পেলো ঘুরে দাঁড়ানো জয়।
জয়ের আশায় মাঠে নামা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে যায় প্রথমার্ধে। ৩৬তম মিনিটে সোহেল রানার পাসে দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন অধিনায়ক রবিনহো। বসুন্ধরার পরের গোলটিতেও অবদান রাখেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ৫৪তম মিনিটে রবিনহোর ভাসিয়ে দেওয়া বল হেডে জালে পাঠান গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড নুহা মারং।
এই ব্যবধান ধরে রেখে তিন পয়েন্ট আদায়ের চেষ্টায় ছিল ব্রুজনের দল। তবে ২ গোল হজম করে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় কেরালা। আক্রমণে ধার বাড়ায় ভিসেঞ্জো আলবার্তোর দল। সেই সুযোগও তারা পেয়ে যায়। ৭৫তম মিনিটে একটি গোল শোধ দেন জোয়ার্ডিন ফ্লেচার।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার এক মিনিট বাকি থাকতে প্রায় সমতায় ফেরার কাছে চলে এসেছিল কেরালা। ফ্লেচারের আগুনে ফ্রি-কিক দুর্দান্তভাবে লাফিয়ে রুখে দেন বসুন্ধরার গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। তবে অতিরিক্ত পাঁচ মিনিট ফেলেও আর গোল শোধ দিতে পারেনি কেরালা। স্বস্তির জয়ে মাঠ ছাড়ে বসুন্ধরা কিংস।
