ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের ডামাডোল আপাতত নেই। নভেম্বরে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন মৌসুম শুরুর আগে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা দেশগুলো। আর্জেন্টিনাও নিচ্ছে প্রস্তুতি। বিশ্বকাপ নিশ্চিতের পর তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ ইতালি। এ ম্যাচটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ইউরো ২০২০ চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা ২০২০ চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি লড়াই। ইতালির বিপক্ষে সেই ‘ফিনালিস্সিমাকে সামনে রেখে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়াসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিটি ম্যাচ, মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি এবার বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকেই ছিটকে গেছে। তাই অনেকের মতে আগের মতো গুরুত্ব পাবে না ইতালি ও আর্জেন্টিনার এ ম্যাচ। কিন্তু মার্তিনেজের চোখে ইতালি ইতালিই; ইউরোপের সেরা দলগুলোর একটি। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ‘বিশ্বকাপে তারা যেতে পারছে না, এ বিষয়টি বাদ দিলে... প্রতিপক্ষ ইতালি বলেই এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ। আমরা তাদের বৈশিষ্ট্য, তাদের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানি। তারা উঁচুমানের প্রতিপক্ষ। বর্তমানে আমরা কী অবস্থায় আছি, সেটা দেখতে ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ইতালির বিপক্ষে আমরা নিজেদের পরখ করব। মাহামারীর কঠিন সময়ে আমরা ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে পারিনি, এখন খেলব এবং এটা আমাদের জন্য, সমর্থকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম রাউন্ডের প্রতিপক্ষ পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও সৌদি আরব। প্রতিপক্ষদের কঠিন বলেই মনে করছেন ইন্তার মিলানের হয়ে সিরি আ-তে ৩৫ ম্যাচে ২১ গোল করা মার্তিনেজ, ‘বিশ্বকাপে তারা খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ হবে। আমার জন্য এটা প্রথম বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। যতক্ষণ আমরা একসঙ্গে আছি, ততক্ষণ প্রতিটি মিনিট কাজে লাগাতে হবে, যেন নিজেদের সর্বোচ্চটুকু বের করে আনতে পারি এবং কাতার বিশ্বকাপে আমাদের ভালো অবস্থায় যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’ বিশ্বকাপে সতীর্থদের সহায়তা করতে চান মার্তিনেজ, ‘সবারই এই স্বপ্নগুলো থাকে। প্রথমত, স্বপ্ন থাকে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার, এরপর সেগুলো বাড়তে থাকে। আমি স্বপ্ন পূরণ থেকে কয়েক মাস দূরে, আশা করি এটা পূর্ণ হবে এবং আমি আমার সতীর্থদের সাহায্য করতে পারব।’
কিছুদিন আগে ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে খোঁচা দিয়েছিলেন লাতিন আমেরিকার বাছাই নিয়ে। বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে আর্জেন্টিনা খুব বেশি মানসম্পন্ন ম্যাচ খেলেনি। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইউরোপের মতো অতটা এগোতে পারেনি। এ কারণেই আপনি যদি সর্বশেষ বিশ্বকাপের দিকে তাকান, ইউরোপিয়ান দলগুলোই বেশি জিতেছে।’ কথাটা ভালো লাগেনি লাউতারোর, ‘বাস্তবতা হচ্ছে, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে মানসম্পন্ন অনেক খেলোয়াড় আছে, প্রতিভারও কমতি নেই। আমাদের মতো ব্রাজিলেরও ইউরোপে অনেক খেলোয়াড় খেলে। আমার কাছে এমবাপের এমন কথা ঠিক মনে হয়নি।’
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স দেখা হয়ে যেতে পারে। আর তা হলে কথাগুলোর প্রমাণ দিতে পারবে লাউতারো এবং এমবাপে।
