নাসিরনগর উপজেলার ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চাতলপাড় ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে রয়েছে বড়বাজার ও চকবাজার নামে পুরনো দুটি বাজার। চাতলপাড়বাসী আবারও পড়েছে ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনের কবলে। বছর কয়েক আগে জিও ব্যাগ ফেলে ওইসময় ভাঙন কিছুটা ঠেকানো গেলেও এবার নতুন করে ভাঙন ধরেছে চকবাজার, বড় বাজার ও বিলেরপাড়সহ পাশশ্ববর্তী এলাকায়। নদীভাঙনে ব্যবসায়ী পরিবারগুলো দিন পার করছে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে।
নদীভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে তীব্র স্রোত বইছে ধলেশ^রীতে। ইতিমধ্যেই মসজিদ, বাড়িঘর ও কিছু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতেও ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অনেক বাড়িঘর-দোকানপাট। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নদী ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প গ্রহণ করলেও এখনো তা অনুমোদনের অপেক্ষায়।
চাতলপাড়ের নদীভাঙন সম্পর্কে জানতে চাইলে বড়বাজারের শুভেচ্ছা ফার্মেসির মালিক সুজিত কুমার রায় বলেন, নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিন বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কান্না কিছুতেই থামছে না।
এ পর্যন্ত কী পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানতে চাইলে চাতলপাড় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, চাতলপাড়, বিলেরপাড় ও চকবাজার মিলে চার একরের মতো জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সাংসদ, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী এসে পরিদর্শন করে গেছেন। দিন দিন ভাঙনের অবস্থা তীব্রতর রূপ ধারণ করছে।
চাতলপাড়ের নদী ভাঙনরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মেহেদি হাসান শাওন বলেন, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছে জানতে আবারও যোগাযোগ করে দেখব।
