অধিনায়কত্ব কি সাকিবকে পরিবর্তন করবে

আপডেট : ০৩ জুন ২০২২, ০১:১৮ এএম

২০১৮’র উইন্ডিজ সফরে দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব পান সাকিব আল হাসান টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য। তার আগে থেকে জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন সাকিব। ২০১৭’র শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ৬ মাসের ছুটি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেন। সমালোচনার মুখে সাকিব তখন বলেছিলেন, ‘এমন তো নয় যে আর ক্রিকেটই খেলব না, খেলব অবশ্যই।’ উইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ঘরের মাঠে ৬ টেস্টের পাঁচটিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০১৯’র শুরুতে নিউজিল্যান্ডে তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্টের সিরিজের ঘোষিত দলে তিনিই ছিলেন অধিনায়ক, কিন্তু বিপিএল ফাইনালে ইনজুরিতে পড়ায় সফরে যাওয়া হয়নি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামেন। টেস্টের নবাগত দলটির কাছে বাজে ভাবে হেরে যাওয়ার পর শোনা যায় নেতৃত্ব দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন সাকিব। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তখন বলেছিলেন, ‘টেস্টের ব্যাপারে বেশ কিছুদিন থেকেই ওর আগ্রহ নেই।’ এর পরের মাসেই বাজিকরের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য না জানানোর অপরাধে নিষিদ্ধ হন সাকিব। নতুন অধিনায়ক করা হয় মুমিনুল হককে।

টেস্টের প্রতি আগ্রহটা যে সত্যিই কম সাকিবের তা বোঝা যায় পরিসংখ্যানে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে আসার পর বাংলাদেশের খেলা ১৩ টেস্টের ৫টিতে খেলেছেন শুধু। আইপিএল খেলার জন্য ছুটি চেয়ে নেন, যাননি শ্রীলঙ্কায় দুই টেস্টের সফরে। পারিবারিক কারণে ছুটি নেন চলতি বছরের শুরুর দিকে নিউজিল্যান্ডে দুই টেস্টের সফরে, যেটিতে কিউইদের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পায় বাংলাদেশ।

গোল বাধে মার্চ-এপ্রিলে দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সফরে সাকিবকে পাওয়া নিয়েও। মার্চে দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডের সময় সাকিব বলে বসেন, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মানসিকতা বা স্পৃহা তার নেই। এই কথা বলেই ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি চেয়ে বিজ্ঞাপনের শুটিয়ে দুবাই চলে যান তিনি। সাকিবের এমন আচরণে কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বলেছিলেন, ‘খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে (আফগান সিরিজ) যদি বলে আমি এনজয় করিনি, আগ্রহ নেই, মোটিভেশন নেই। এগুলো না থাকলে খেলছে কেন?’ টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন সরাসরি বলেন, ‘সাকিব না খেললেও কোনো সমস্যা নেই, আই ডোন্ট কেয়ার। আমি মনে করি বিসিবিও কনসার্ন না। কিন্তু ওর যদি মন না চায় যে একটা ফরম্যাট খেলব না তো বলুক।’

সাকিবের ছুটি মঞ্জুরের পরদিনই চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের তালিকা ঘোষণা করেছিল বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড)। সেখানে সাকিব ছিলেন তিন ফরম্যাটেই। বিসিবি সাকিবের ছুটি মঞ্জুর করার তিন দিনের মাথায় জানা যায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলবেন সাকিব। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করার পর দেশে ফেরেন সাকিব পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হওয়ায়। ফলে তার টেস্ট খেলা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সেই সফরের পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা সিরিজে সাকিব প্রথম টেস্টে খেলবেন কি-না তা নিয়ে দেখা দিয়েছিল সংশয়। করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে করোনা নেগেটিভ হয়ে মাত্র আধঘণ্টা ব্যাটিং অনুশীলন করেই সাকিব নেমে পড়েন চট্টগ্রাম টেস্ট। মিরপুর টেস্টে দল হারলেও সাকিব প্রথম ইনিংসে বল হাতে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৫৮ রান। ফর্মহীনতায় মুমিনুলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ চাপ হয়ে বসতে থাকে, আর শোনা যেতে থাকে সাকিব আবার নেতৃত্ব গ্রহণে আগ্রহী। শেষ পর্যন্ত আরেকটি উইন্ডিজ সফরের আগে, তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কত্ব  নিলেন সাকিব আল হাসান। সাকিবের ইস্যু ‘ফুলস্টপ’ হওয়া উচিত বলা খালেদ মাহমুদ সুজনকে বলতে শোনা যায়, ‘সাকিব সব সময় টেস্ট খেলতে চায় এখন। সাকিব সব সময়ই বলে সে টেস্ট বেশি উপভোগ করে। সাকিবেরও একটা পরিবর্তন আসতে পারে।’

অধিনায়কত্ব কি সাকিবকে পরিবর্তন করতে পারবে সত্যি? গতকাল বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘ও উইন্ডিজের পর যে সিরিজটা আছে জিম্বাবুয়েতে, শুধু সেটিতে নিশ্চিত নয়। এরপর যত সংস্করণে যত খেলা আছে সব কটিতে খেলবে। টেস্ট তো খেলবে বলেই দিয়েছে। এটা একটা মানদণ্ড ছিল আমাদের, ও খেলবে কি-না।  তবে কতদিন সাকিব অধিনায়ক থাকবে তা বলা মুশকিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত