হেপাটাইটিস-বি গবেষণায় ডা. স্বপ্নীলের পিএইচডি লাভ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২২, ০৯:১৪ পিএম

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের নতুন ওষুধ ন্যাসভ্যাক এবং হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস জনিত লিভার রোগ বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য পিএইচডি (ডক্টর অব ফিলোসফি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়া থেকে এই ডিগ্রি পেয়েছেন তিনি। শুক্রবার ডা. স্বপ্নীল তার এই ডিগ্রি অর্জনের তথ্য জানান।

জাপানের তোশিবা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল সায়েন্সেস বিভাগের বাংলাদেশি প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর ও ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল যৌথভাবে হেপাটাইসি-বি ভাইরাসের নতুন ওষুধ ন্যাসভ্যাক উদ্ভাবন করেন। ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ন্যাসভ্যাকের ফেইজ ১, ২ ও ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রধান গবেষক হিসাবে কাজ করেছেন। তার গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে ওষুধটি এরই মধ্যে কিউবাসহ একাধিক দেশে নিবন্ধন পেয়েছে এবং বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওষুধটির রেসিপি অনুমোদন করেছে। ডা. স্বপ্নীল বাংলাদেশে উদ্ভাবিত কভিড-১৯ ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্সের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেরও প্রধান গবেষক।

বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বৈজ্ঞানিক জার্নালে অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীলের ৩০০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদনা করেছেন লিভার বিষয়ক ৫টি টেক্সট বই- যেগুলো বিভিন্ন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক মেডিকেল প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করেছে।

এর আগে ২০১৩ সালে অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীলকে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্যা স্টাডি অব দা লিভারের ‘প্রেসিডেনশিয়াল ডিস্টিংশ’ এবং ২০১৪ সালে ইউরোএশিয়ান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ‘অর্ডার অব মেরিট’ -এ ভূষিত করে। ভারতের কলিঙ্গ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল ফাউন্ডেশন তাকে ২০১৫ সালে সম্মানসূচক ‘ব্লুমবার্গ ওরেশন’ প্রদান করে। ২০১৭ সালের ‘হুজ হু’ -তে তার জীবনী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি ২০১৮ সালে মার্কুইস হুজ হু কর্তৃক ‘এলবার্ট নেলসন মার্কুইস লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড’ -এ ভূষিত হন।

ন্যাসভ্যাক উদ্ভাবনের জন্য ২০১৯ সালে এ অধ্যাপককে যৌথভাবে ‘প্রিমিও ন্যাশনাল’ পদকে ভূষিত করা হয় এবং ‘বাস গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ এ ভূষিত করে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

বাংলাদেশে লিভার ক্যানসার চিকিৎসায় সর্বাধুনিক পদ্ধতি ট্রান্স-আর্টারিয়াল কেমো-এম্বোলাইজেশন (টেইস) প্রয়োগে অধ্যাপক স্বপ্নীলের বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি লিভার ফেইলিওরে অটোলোগাস হেমোপয়েটিক স্টেমসেল ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন, প্লাজমা এক্সচেঞ্জ ও লিভার ডায়ালাইসিসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। 

অধ্যাপক স্বপ্নীল ১৯৭০ সালে সিলেট শহরের কালিঘাটে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এম.বি.বি.এস, পাশ করেন। ১৯৯৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে এম.এস.সি. এবং ২০০৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেপাটোলজিতে এম.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ইন্ডিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ান, রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান অব আয়ারল্যান্ড এবং রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান অব লন্ডনের ফেলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত