‘সরকারের সিন্ডিকেট সব পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে’

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ০৩:৪৭ পিএম

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বললেন, সরকারের সিন্ডিকেট নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে শনিবার (৪ জুন) এক আলোচনা সভায় দেশের বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

তিনি বলেন, ‘আজকে সর্বশেষ অবস্থা দেশ একটা নীরব দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে চলছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য গত কয়েকদিনে দেখেন- চাল থেকে শুরু করে সকল পণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি। কী করে ঊর্ধ্বগতি? আজকের পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে যে, এটা নজিরবিহীন যে আমাদের এখানে মূল্যস্ফীতি ঘটেছে।’

‘একদিকে এই মূল্যস্ফীতি অন্যদিকে আমাদের টাকার মান কমে যাচ্ছে। কিসের জন্য? এই সরকারের দুঃশাসনের জন্য। গায়ের জোরে তারা সরকারে আছে, সিন্ডিকেট করে সরকারে আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য তাদের আওয়ামী সিন্ডিকেটে হাতে। এই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে এই আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেট।’

এই অবস্থার পরিবর্তনে আন্দোলনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এ জন্য আজকে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই আলোচনা সভার টেবিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আছেন। আপনারা লক্ষ্য করেছে যে, এ দেশে যারা এই স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন করে না তাদের বিরোধিতা করে, এ দেশের গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক দল-জোট-ব্যক্তিকে নিয়ে একটা জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করার জন্য আমরা একটা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

‘আমরা খুব আনন্দিত যে, অনেক সাড়া পেয়েছি। তার চেয়ে বেশি আনন্দিত যে, জনগণের মধ্যে সাড়া আমরা সব চাইতে বেশি পেয়েছি। কারণ জনগণ আজকে ঐক্যবদ্ধ। শুধুমাত্র একটি রাস্তায় নেমে কার্যকর আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। সেই অপেক্ষায় জনগণ আছে।’

‘শ্রীলংকায় রাস্তায় নেমে জনগণের অভ্যুত্থান’-এর মতো বাংলাদেশের মানুষও রাজপথে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ এই সরকারের প্রতি বিক্ষুব্ধ, এই সরকারের প্রতি তারা আস্থা হারিয়েছে। তাই আজকে দেশের জনগণ চায় যত শিগগিরই এই সরকারের পতন, জনগণ চায় এ দেশে একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হোক। তাহলে আজকে যে বাংলাদেশের সংকট প্রত্যেকটা সমস্যার সমাধান সম্ভব। গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার সম্ভব, মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার সম্ভব, কথা বলার অধিকার পুনরুদ্ধার সম্ভব, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, অর্থনীতিতে যে লুটপাট হচ্ছে সেই লুটপাট বন্ধ করা সম্ভব।’

‘এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে এ দেশে কখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না, তারা অতীতের নির্বাচনগুলোতে প্রমাণ করেছে। আজকে আন্তর্জাতিকভাবে এটা স্বীকৃত। অতএব, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির আবদুস সালাম, জাগপার খন্দকার লুতফর রহমান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, এনডিপির আবু তাহের, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত