চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার অলিউর রহমান (২২)। হঠাৎ এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, আশপাশের সব কিছু অন্ধকার হয়ে যায়। তারপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। পরে রবিবার (৫ জুন) বেলা ১২টার দিকে পরিবারের কাছে খবর আসে অলিউর মারা গেছে।
অলিউর উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলী গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে। তিনি বিএম কনটেইনার ডিপোতে শ্রমিকের কাজ করতেন।
জানা গেছে, শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের বিএম কনটেইনার ডিপোতে হঠাৎ আগুনের ঘটনা ঘটে। এ সময় লাইভে থেকে সবাইকে আগুনের খবর দিচ্ছিল অলিউর। হঠাৎ অনেক শব্দে বিস্ফোরণ হলে হাতের মোবাইল ছিটকে যায় অলিউরের।
তারপর চারিদিকের আহাজারি, চিৎকার শোনা গেলেও অলিউর কোথায় কি অবস্থায় আছে তা জানা যায়নি। পরে রবিবার বেলা ১২টার দিকে অলিউরের পরিবারের কাছে খবর আসে অলিউর মারা গেছে।
সরেজমিন অলিউরের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, অলিউর মারা যাওয়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজনরা বিলাপ আর আহাজারি করছেন। স্বজনদের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারি হয়ে এসেছে।
তার বাবা নিকটাত্মীয়দের নিয়ে লাশ আনতে চট্রগ্রাম রওয়ানা হয়েছেন।
অলিউরের মা হাসিনা বেগম জানান, অলিউরের সঙ্গে ফোনে শনিবার দুপুর ২টায় তার সর্বশেষ কথা হয়। কয়েকদিনের মধ্যে সে বাড়িতে আসার কথাও ছিল।
অলিউর রহমানের চাচা সুন্দর আলী জানান, রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম হাসপাতালে থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় অলিউর মারা গেছে। দ্রুত গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ আনার জন্য বলা হয়।
পরিবারের ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে অলিউর বড়। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে প্রায় ৪ মাস আগে একই গ্রামের বাসিন্দা ঠিকাদার মামুন মিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড বিএম কনটেইনার ডিপোতে শ্রমিকের কাজে যোগ দেন অলিউর।
