সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় সেইফ লাইন পরিবহনের ধাক্কায় আহত আরও এক নারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরমাণু শক্তি কমিশনের টেকনিক্যাল অফিসার আতিকুর রহমান।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ওই নারী বৈজ্ঞানিকের নাম ফারহানা ইসলাম নিপা (৩৫)। তিনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার দ্বিমুখার উত্তর শিবপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে।
ফারহানা স্বামী আরাফাত বিন ইউসুফের সঙ্গে রাজধানীর কল্যাণপুরে থেকে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (নিউক্লিয়ার সাইন্স) হিসেবে কাজ করতেন।
এছাড়া তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজিক্যাল সাইন্স ডিপার্টমেন্টের (৩৫ ব্যাচ) সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তার আড়াই বছরের এক সন্তান রয়েছে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ টি এম ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর গুরুতর অবস্থায় নিপাকে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন তিনি।
এদিকে যে বাসের ধাক্কায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেইফ লাইন পরিবহনের সেই বাসটির সড়কে চলাচলের রুট পারমিট, ফিটনেস ও ট্যাক্সের মেয়াদ ছিল না বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ’র সাভার কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. সাজ্জাদুর রহমান। বিআরটিএর কাছে থাকা তথ্য অনুসারে বাসটির (ঢাকা মেট্টো-ব-১৪-৫৮৭৮) সড়কে চলাচলের অনুমতি (রোড পারমিট) নেই।
এছাড়া বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই এবং ট্যাক্সের মেয়াদ ২০১৫ সালের ২৪ মে শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে যে বাসের ধাক্কায় পাঁচজনের মৃত্যু হলো সেই সেইফ লাইন বাসের চালক মো. মারুফ হোসেনও (২৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নিহত মারুফের মা শামসুন্নাহার।
এছাড়া নিহত চালকের সহযোগী তানভীর (২৫) এখনও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বর্তমানে তানভীর আহমেদ সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় তার বাঁ হাত ভেঙে গেছে, আর বাঁ পা কেটে গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বলেন, সাভারের বলিয়াপুরে সড়ক দূর্ঘনায় দুজন বিজ্ঞানী, একজন প্রকৌশলী ও দুই বাসের চালক নিহত মারা যায়। বুধবার রাতে নারী বৈজ্ঞানিক ফারহানা ইসলাম নিপার মৃত্যুতে সেই সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছাল।
ঘটনার দিন রাতেই অজ্ঞাত চালককে আসামি করে সাভার হাইওয়ে থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।
প্রসঙ্গগত গত রোববার সকাল নয়টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের দুজন বিজ্ঞানী, একজন প্রকৌশলী ও স্টাফ বাসের চালক নিহত হন। এভাড়া দূর্ঘটনায় দায়ী বাসটির চালক মো. মারুফ হোসেনও ওইদিনই মারা যান।
