মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেত্রী নুপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের হাওড়ায়। শনিবার বিক্ষোভ-সহিংসতায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে হাওড়া জেলা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিমদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর, ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে হাওড়া জেলার সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত পাঞ্চাল এলাকার স্থানীয় একটি ক্লাবে হামলা ও লুটপাটের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি-চার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
এদিকে, হাওড়ায় সহিংসতার ঘটনা পরিদর্শনে যাওয়ার সময় বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-সহিংসতায় কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ইন্ধন থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
তিনি বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল দাঙ্গা বাধাতে চায়। তার প্রশ্ন, বিজেপির ‘পাপের’ জন্য জনগণকে কষ্ট পেতে হবে কেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় মমতা বলেছেন, আগেও বলেছি, দুদিন ধরে হাওড়ার জনজীবন স্তব্ধ করে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এর পেছনে কিছু রাজনৈতিক দল আছে এবং তারা দাঙ্গা করাতে চায়। কিন্তু এসব বরদাস্ত করা হবে না এবং এ সবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হবে। পাপ করল বিজেপি, কষ্ট করবে জনগণ?
এর আগে, বিজেপি নেতা নুপুর শর্মার মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার হাওড়ায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। শনিবার সকালের দিকে একই এলাকায় আবারও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
ভারতের বার্তাসংস্থা এএনআই বলছে, বিক্ষোভ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। বুধবার পর্যন্ত হাওড়ায় কড়া বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া আগামী সোমবার পর্যন্ত পুরো জেলায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে রাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার হাওড়ার কয়েকটি এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে আন্দোলন প্রত্যাহার করে বিক্ষোভকারীদের নয়াদিল্লিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে ভারতের অন্তত ৯টি প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদ করেছেন দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমরা। মহানবীকে অবমাননার প্রতিবাদে সংখ্যালঘু মুসলিমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন।
