সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে পুলিশ-র্যাবের সঙ্গে বিহারিদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ারসেল ও শটগানের গুলি করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।
মসজিদে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকালে বিহারি কলোনির বাসিন্দারা থানা ঘেরাও ও আদমজী-নারায়ণগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। বন্ধ করে দেয় যান চলাচল। তাদের সড়ক থেকে সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বিহারিরা।
জানা গেছে, গত শুক্রবার পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আজিজুল হককে মসজিদের ভেতরে মারধরের ঘটনায় এসআই মির্জা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পঞ্চাশ জনের নাম উল্লেখ ও শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তি আসামি দিয়ে মামলা করেন।
ওই মামলার আসামি ধরতে রবিবার রাত একটা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত বিহারি কলোনিতে অভিযান চালায় থানা-পুলিশ।
এ সময় এজাহারনামীয় ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শওকত জামিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ছয়টা থেকে থানা কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেয় বিহারিরা কলোনির নারী-পুরুষরা। তারা আদমজী ইপিজেডের তিনটি প্রবেশ পথে ব্যারিকেড দেয়। শ্রমিকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিলেও গাড়ি প্রবেশে করতে দেয়নি।
আটটার দিকে তারা থানা কার্যালয় ঘেরাও করে আটকদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে। পরে সড়কের উপর কাঠের টেবিল ও চকি ফেলে অবরোধ করে।
পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে আটকদের না ছাড়লে তারা যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। তখন নয়টার দিকে অ্যাকশনে যায় পুলিশ ও র্যাব। এ সময় বিহারিরা পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।
পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার সেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে। তখন তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ।
বিহারি কলোনির চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন জানান, পুলিশ কর্মকর্তা মারধরের ঘটনায় রবিবার গভীর রাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ কলোনিতে অভিযান চালায়। নারীদের লাঞ্ছিত করেন। ভেঙে ফেলে ঘরের দরজা-জানালা। ঘটনার সময় মসজিদে ছিল না বা জড়িত নয় তাদের গ্রেপ্তার করে। এতে কলোনিবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) মো. আমির খসরু বলেন, অভিযান চলানোর সময় তারা পুলিশকে বাধা দিয়েছে। আবার সড়ক অবরোধ ও আন্দোলন করার সাহস দেখায়। অপরাধী যেই হোক ছাড় পাবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
