পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। দূষণকারীদের নাম না প্রকাশে অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরকে আদেশের এক সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণকারীদের নাম প্রকাশে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
পরিবেশ ও বন সচিব, তথ্য সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাতজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ৮ জুন হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ দেশ রুপান্তরকে বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনের ৬ (১) এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৪ (২) (চ) বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ দূষণকারীদের সব তথ্য প্রকাশ করতে আইনগতভাবে বাধ্য। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর আইনকে তোয়াক্কা না করে দূষণকারীদের পাশে অবস্থান নিয়েছে যা সম্পুর্ণ বেআইনি। এটি খুবই দুঃখজনক। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশ দূষণকে আরো উৎসাহিত করবে। আদালত আমাদের বক্তব্য আমলে নিয়ে দূষণকারীদের নাম প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করবে না পরিবেশ অধিদপ্তর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবেশ দূষণের দায়ে ২০১৯ সালে মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় অবস্থিত তিনটি রেডিমিক্স কারখানাকে ২ লাখ করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল অধিদপ্তর। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জানানো হয়। এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া দেখান বড় শিল্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, এভাবে দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ না করার মৌখিক সিদ্ধান্ত নেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।
