মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সন্তানদের অবহেলার শিকার ৮৫ বছর বয়সের মাকে গোয়াল ঘরে রাখার অপরাধে গ্রেপ্তার ছেলে ও পুত্রবধূদের ছাড়িয়ে আনলেন মা নিজেই।
ওই বৃদ্ধা উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্য চারিগ্রামের মৃত হযরত আলীর স্ত্রী আয়েশা বেগম । তিনি ৩ ছেলে সন্তানের জননী।
আয়েশা বেগমকে গত ১১ জুন রাত ১০টার দিকে ছেলে মো. মোস্তফা কামালের গোয়াল ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর দুই ছেলে ও এক পুত্রবধূকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন বৃদ্ধার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪ জনের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার ভরন-পোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী থানায় মামলা হলে ছেলে মো. কলম (৫৫) ও মো. মোস্তফা কামালকে (৪৫) গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং ওইদিনই প্রবাসী অপর ছেলে মো. চানু মিয়ার স্ত্রী মর্জিনাকে (৩২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৩ জুন তাদের কোর্টে প্রেরণ করা হয়।
জামিন শুনানিতে অংশ নেওয়া অ্যাড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট-৫ এ জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আয়েশা বেগম উপস্থিত থেকে গ্রেপ্তারদের জামিনের জন্য লিখিত আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাজেদুল আলম স্বাধীন বলেন, ছেলে ও পুত্রবধূ এলাকার মুরুব্বিদের কাছে অঙ্গীকার করেছেন যে, ভবিষ্যতে তারা মায়ের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করবেন না। ঠিকমতো সেবাযত্ন ও দেখাশোনা করবেন। বৃদ্ধাকে দেখার মতো আর কেউ নেই। তাই এলাকার মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে ছেলে কলম মিয়া, মোস্তফা কামাল ও পুত্রবধূ মর্জিনা অক্তারের জামিন করানো হয়েছে।
আর্থিক অবস্থা সচ্ছল হলেও সন্তানরা ভরন-পোষণ না করে ৬ মাস আগে থাকার ঘর থেকে বের করে দিলে গোয়াল ঘরে ঠাঁই হয় আয়েশা বেগমের। বৃদ্ধাকে তারা ঠিকমতো খাবার দিতেন না। প্রতিবেশীরা খাবার দিলে পুত্রবধূরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং নানা ধরনের অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি গত ৬ জুন মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানের কাছে স্থানীয় সূত্রে পৌঁছায়। এতে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সিংগাইর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
