দুইবার ধর্ম বদলে ২ তরুণীকে বিয়ে যুবকের

আপডেট : ১৪ জুন ২০২২, ১১:২০ পিএম

মুসলিম সেজে এক মুসলিম তরুণীকে প্রথমে বিয়ে করেন এক হিন্দু যুবক। আট বছর পর দুই সন্তান রেখে ফের হিন্দু হয়ে আরেক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি যুবক। এর ফলে মুসলিম তরুণী তার দুই সন্তানের বাবার পরিচয় নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এমন ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে।

অভিযুক্ত যুবক অর্জুন ধর হীরা মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দক্ষিণ দৌলতপুরের বাসিন্দা।

আর ভুক্তভোগী দুই তরুণী মোহনগঞ্জ পৌরশহর ও মোহনগঞ্জের সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের বাসিন্দা।

সূত্রে জানা গেছে, পৌরশহরের দৌলতপুরে বসবাসকালে একই এলাকার এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন অর্জুন ধর হীরা। পরে ২০১৪ সালে আদালতের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মো. হিরা মিয়া রাখেন। এরপর ওই মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৭ সালে তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। মুসলিম নামানুসারে নাম রাখা হয় শিশুর। পরে ২০২২ সালে আরো একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তবে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি হঠাৎ নিখোঁজ হন হিরা। ফোন বন্ধ রাখায় তিনি কোথায় আছে কেউ জানতে পারেননি। স্ত্রী তাকে সব জায়গায় খুঁজে না পেয়ে থানায় যান সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে। পুলিশ জানায় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করুন। শেষে না পেলে জিডি নেয়া হবে। একপর্যায়ে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন তার স্বামী অন্য একটি হিন্দু মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুসলিম তরুণী জানান, ‘ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় তাকে বিয়ে করেছিলাম। আট বছর কেটে গেছে ভালোই। এর মধ্যে দুটো ছেলেমেয়ে হয়েছে। বড় মেয়েটা মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। গত ২৩ জানুয়ারি আবার এক হিন্দু মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে সে। খবর শুনে বাড়িতে গিয়ে নতুন বউ দেখে প্রতিবাদ করায় শাশুড়ি আমার মেয়েটার হাতে এক শ টাকা দিয়ে বিদায় করে দিয়েছে। আর স্বামীর কাছে  এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেছে তোর যা খুশি কর, মামলা কর। আর মানুষকে বলে বেড়ালে জানে মেরে ফেলব। শ্বশুর ভালো মানুষ ছিলেন, তিনি জীবিত থাকলে থাকতে সমস্যা হয়নি। গত বছর মারা যাওয়ার পর থেকেই ঝামেলা শুরু হয়েছে। শাশুড়ির প্রশ্রয়েই আমার স্বামী এসব করছে। ঘটনাটি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানিয়ে ভয়ে এলাকা থেকে চলে এসেছি’।

তিনি আরো জানান, ‘হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করায় পরিবার থেকে আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। এখন সেই ছেলে আবার হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে হিন্দু হয়ে গেছে। আমার দুই কূলই শেষ। সন্তানরা এখন কী পরিচয়ে বড় হবে? এলাকার মানুষ বলাবলি করছে এরা নাকি আধা হিন্দু আধা মুসলমান। কোথাও মুখ দেখাতে পারছি না। আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার কোনো উপায় দেখছি না’।

অভিযুক্ত অর্জুন ধর হীরা ওরফে মো. হীরা মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনা সব সত্য তো কী করবেন? সংবাদ করে কী করবেন করেন। সংবাদ প্রকাশ হলে আমার ফেসবুক আইডিতে ট্যাগ করে দিয়েন’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরীর চাকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, ‘অর্জুন ধর হীরাদের পরিবার স্থানীয়ভাবে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। এদের কেউ ভালো চোখে দেখে না। তার প্রথম স্ত্রী আমার কাছে এসেছিল বিস্তারিত বলেছে। সব শুনে হীরাকে জানালাম। আমাকে এ বিষয়ে পরে জানাবে বলেও আর কিছু জানাল না। দ্বিতীয়বার যে হিন্দু মেয়েটাকে বিয়ে করেছে সে এখন তাদের বাড়িতেই আছে’।

মোহনগঞ্জ পৌরশহরের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল হোসেন রতন বলেন, ‘পুরো ঘটনাটা দুঃখজনক। এ নিয়ে সালিসও করেছি। ছেলেমেয়েরা বাবার পরিচয় দিতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে। এই ঘটনায় একটা কঠিন সাজা হলে এমন আর কেউ করার সাহস দেখাবে না’।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এমন যদি ঘটে থাকে তাহলে এটা দুঃখজনক। মেয়েটা চাইলে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। আদালতেও এ নিয়ে মামলা করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত