ছাত্রীকে ‘চুলের মুঠি’ ধরে বেধড়ক মারধর করলেন প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ১০:২২ এএম

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে ‘চুলের মুঠি’ ধরে বেধড়ক মারধরসহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

আহত ওই ছাত্রীকে পেকুয়া সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষককে আসামি করে রাতেই পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ছাত্রীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে বেত্রাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাঁটাচলাও করতে পারছে না।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম আশুতোষ নাথ। তিনি পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের পূর্ব মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালী গ্রামের হতদরিদ্র শফিউল আলমের মেয়ে শরমিন বেগম (১১) পূর্ব মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী।

গতকাল সকালে তার মেয়ের সঙ্গে এক সহপাঠীর ঝগড়া হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক দুজনেরই বিচার না করে আক্রোশমূলকভাবে তার অসুস্থ মেয়ে শরমিন বেগমকে চুলের মুঠি ধরে অমানবিকভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।

বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরে এসেও প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মারধর-নির্যাতনের বিষয়টি পরিবারের কাউকে বলেনি।

রাত ৯টার দিকে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলা জখম দেখতে পেয়ে তার কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়।

এ সময় শরমিন বেগম জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ নাথ তাকে ‘চুলের মুঠি’ ধরে ক্লাসের সবার সামনে অমানবিকভাবে মারধর করেছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে তাকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। মারধরের সময় তিনি কান্নাকাটি করেও স্যারের মন গলেনি।

গতকাল রাত ১০টার দিকে পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছালামত উল্লাহ খান ও পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাস্টার হানিফ চৌধুরীর কাছে আহত মেয়েকে নিয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন ছাত্রীর বাবা।

এ সময় শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন।

ছাত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আশুতোষ নাথ বলেন, তার ভুল হয়ে গেছে। তিনি এ ঘটনায় অনুতপ্ত।  

পেকুয়া থানার ওসি মো. ফরহাদ আলী জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত