এঁটো-বাসি রুটি বাঁচিয়ে রাখছে আফগানদের

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১০:৩২ পিএম

কাবুলের নীল গম্বুজ মসজিদের সামনের ফুটপাতে বড় বড় কমলা রঙের বস্তায় বাসি, বেঁচে যাওয়া রুটির টুকরো ভর্তি করে রাখা। বস্তায় খুঁজে খুঁজে অপেক্ষাকৃত ভালো রুটিগুলো দেখানোর চেষ্টা করছেন বিক্রেতা সাফি মোহাম্মদ। কেউ কেউ কিনছেন সেগুলো। যেগুলো একটু বেশিই বাসি হয়ে গেছে সেগুলোও কিছুটা কম দামে কিনছেন অসংখ্য ক্রেতা। সাফি মোহাম্মদ জানান, সাধারণত এগুলো পশুকে খাওয়ানো হয়। কিন্তু অনেক বেশি আফগান নাগরিক নিজেরাই এগুলো খাচ্ছেন। তবে শঙ্কার বিষয়, গত কয়েক দিন ধরে বাসি রুটিও কমেছে বাজারে। কারণ মানুষ এখন আর অপচয় করতে চায় না, কম খায়।

কাবুলের ফুল-এ-খেস্তি বাজারে ৩০ বছর ধরে বাসি রুটি বিক্রি করা সাফি মোহাম্মদ বলেন, ‘আগে দিনে পাঁচজন এসব রুটি কিনত এখন কেনে ২০ জনের বেশি।’ তিনি বলেন, ‘আফগান জনগণের জীবন এখন খাঁচায় বদ্ধ পাখির মতো, যাদের কাছে খাবার কিংবা পানি নেই। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমার দেশ থেকে এই দুর্দশা ও দারিদ্র্য দূর হয়।’

গত বছরের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির মানুষের গড় আয় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে, কিন্তু একই সময়ে খাবারের দাম দ্রুত বেড়েছে। আগামী শীতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা এড়াতে আফগানিস্তানে মানবিক সাহায্য বিতরণ করা হয়েছে। তবে সতর্কতা রয়েছে এই সহায়তা আর যথেষ্ট নয়।

দেশটির তিন সন্তানের বাবা হাশমাতুল্লাহর মতো দরিদ্র পরিবারগুলোই ভুগছে। তিনি বাজারে অন্য মানুষের কেনাকাটা বহনের কাজ করেন। কিন্তু দেখেছেন তার স্বল্প আয় ইতিমধ্যেই গত বছরের তুলনায় এক-পঞ্চমাংশে নেমে এসেছে। একটি শপিং ব্যাগ ভর্তি করে বাসি রুটি কিনে হাশমাতুল্লাহ বলেন, ‘সকাল থেকে কাজ করছি আর এটাই আমি কিনতে পারলাম’।

কাবুলের একটি দরিদ্র পাড়ায় নিজের বাড়িতে ফিরে হাশমাতুল্লাহ তার পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করেন। তিন ছেলেকে স্কুলে রাখার সব চেষ্টাই তিনি করছেন। কিন্তু এর বদলে তাদের খেতে হচ্ছে বাসি রুটি থেকে বাঁচা টুকরো, টমেটো ও পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করা এক খাবার। হাশমাতুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের সামনে লজ্জা পাই, আমি এতটাই দরিদ্র যে তাদের ভালো খাবার দিতে পারি না। আমার করার কিছু নেই। আমি চেষ্টা করলেও কেউ আমাকে ধার দেবে না...।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত