পদ্মা সেতু নিয়ে মাতামাতি করে জনগণের ক্ষতি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
তিনি বলেন, এক পদ্মা সেতু নিয়ে যে মাতামাতি করছেন কত মানুষের যে ক্ষতি করেছেন তা কি জানেন?
তিনি বলেন, রাতের পরে দিন আসে, অন্ধকারের পর আলো আসে। এই দিন এ রকম থাকেব না, দিন পরিবর্তন হবে। তাই আলো আসার আগে পালিয়ে যান, তা না হলে দেশের জনগণ পদ্মা নদীর পানিতে আপনাদের চুবাবে আপনারা যেমন চুবাতে চেয়েছেন। সুতরাং এখনো সময় আছে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন। তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক অধিকার ফোরামের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব বলেন।
আলাল বলেন, আগের বছরের চেয়ে এ বছর ৩ হাজার কোটি টাকা বেশি পাচার হয়েছে। কারা পাচার করেছে? এটা আমার আপনার বলার দরকার নাই। পরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছেন কারা টাকা পাচার করেছে। দেশের সরকারি আমলারা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদরাই টাকা পাচার করেছে।
তিনি বলেন, সারা দেশের জনগণের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি তার সারা জীবনে ২৩টি আসনে নির্বাচন করেছেন। সবকটি আসনেই তিনি জয় পেয়েছেন। পরাজয় বলতে তার কোনো কিছু নেই। আর এ কারণে এ অবৈধ সরকারের রোষালে পড়েছেন তিনি।
আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো আওয়ামী লীগের নেতার কাছে হারে নাই। আপনি (শেখ হাসিনা) তো টিকে আছেন এক গোপালগঞ্জ নিয়ে। আপনি তো আঞ্চলিক নেতা। আর এ কারণে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর এত অত্যাচার, তাকে এত কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। আপনার (শেখ হাসিনা) গোপালগঞ্জকে পারলে আপনি রাজধানী বানান, সেই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এখন বুঝে নেন ঘরে যে খাট-চেয়ার থাকে সেগুলোর পায়াও ভেঙে পড়া শুরু করেছে। যে দিন পড়ে যাবেন সেদিন ভারত থেকে সুজাতারা আর আসবে না। সে দিন হাত ধরে তোলার জন্য চীন থেকে আর কোনো বন্ধু আসবে না। সব দিক খেয়ে ফেলেছেন। একদিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়, অন্যদিকে বগুড়ার নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। অর্থাৎ পূর্ব-পশ্চিম উত্তর-দক্ষিণ সবদিক থেকে আপনাদের তাসের ঘর ভেঙে পড়ছে।
তিনি বলেন, আপনারা (আওয়ামী লীগ) বিদেশে আমেরিকার হতেপায়ে ধরে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলে সব সমস্যা সমাধান হয়। আপনারা ওদের হাতেপায়ে ধরার কি আছে? বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যান। তাকে মুক্তি দিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা করেন। নির্বাচন কমিশন বাতিল করেন, সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
