উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। স্থানীয় সময় শুক্রবার ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সর্বশেষ ছাড়পত্রে অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সব আইনি জটিলতার অবসান হলো।
তবে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন অনুমতির বিপক্ষে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন অ্যাসাঞ্জ। অ্যাসাঞ্জের স্ত্রী স্টেলাও বলেছেন, অ্যাসাঞ্জ ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
গত মাসেই অ্যাসাঞ্জ কারাগারে তার বাগ্দত্তা স্টেলা মরিসকে বিয়ে করেছেন। মরিস গত মাসে প্রীতি প্যাটেলের কাছে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এটা রাজনৈতিক মামলা। প্রীতিই এর সমাপ্তি টানতে পারেন।
গুপ্তচরবৃত্তিসহ মোট ১৮টি অভিযোগে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিচার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ উইকিলিকসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক তথ্য ফাঁস করে বিপুল পরিমাণ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।
তবে অ্যাসাঞ্জের সমর্থকেরা বলেন, অ্যাসাঞ্জ বিদ্যমান ব্যবস্থাবিরোধী একজন নেতা। তাদের দাবি, অ্যাসাঞ্জকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, কারণ তিনি ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কুকীর্তির দলিল ফাঁস করে দিয়েছিলেন। তার বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতার ওপর হামলা।
এর আগে গত এপ্রিলে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে আদেশ দেন যুক্তরাজ্যের আদালত। সেই আদেশের পর অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণের মাত্র একটি ধাপ বাকি ছিল। বুধবার লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। সেই আদেশের পর কেবল ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাকি ছিল। এবার তাও হল।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বেলমার্শ কারাগারে রয়েছেন। অ্যাসাঞ্জ ২০১৯ সাল থেকেই বেলমার্শ কারাগারে বন্দী। এর আগে অ্যাসাঞ্জ ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় সুইডিশ আদালতের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসের ভেতরে দীর্ঘ সাত বছর কাটান।
যুক্তরাজ্যের আদালত বলছে, অ্যাসাঞ্জসকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠালে মানবাধিকার খুন্ন হবে না। একই সঙ্গে তার সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ আচরণও করা হবে না।
২০১০ এবং ২০১১ সালে মার্কিন সরকারে গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বে হইচই ফেলে দেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এতে বিব্রত যুক্তরাষ্ট্র অ্যাসাঞ্জের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে সাত বছর ধরে যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ। সেখান থেকে ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে লন্ডন পুলিশ। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের একটি নিম্ন আদালত অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
তখন আদালত বলেন, অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো যাবে না। মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে।
তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যকে বলা হয়, যদি তারা অ্যাসাঞ্জকে হস্তান্তরে সম্মত হয়, তাহলে সে তার জন্মভূমি অস্ট্রেলিয়ায় যেকোনো মার্কিন কারাগারে সাজা ভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট এডিএক্স কারাগারে রাখা হবে না। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা। এরপর যুক্তরাজ্যের নিম্ন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র।
