ছদ্মবেশে ৩১ বছর, অবশেষে র‍্যাবের হাতে ধরা ফাঁসির আসামি

আপডেট : ২০ জুন ২০২২, ১২:৫২ পিএম

মানিকগঞ্জের চাঞ্চল্যকর আজাহার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ কাওছারকে (৬৩) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)। গতকাল রবিবার (১৯ জুন) রাজধানীর গুলশানের বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি দীর্ঘ ৩১ বছর বিভিন্ন ছদ্মবেশে পলাতক ছিলেন। 

র‍্যাব জানায়, গত ৩১ বছর ধরে আসামি মোঃ কাওছার নাম পরিবর্তন করে ইমরান মাহামুদ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রথমে গাজীপুর, কালিয়াকৈর, পুবাইল, উত্তরা, টঙ্গীসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আসামি নিজের পরিচয় গোপন করার জন্য ক্রমাগতভাবে সে পেশা পরিবর্তন করে। প্রথমদিকে সে রাজমিস্ত্রী, ইলেক্ট্রিক, স্যানিটারী মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীতে সে ড্রাইভিং শিখে সিএনজি চালায় এবং বর্তমানে সে প্রাইভেটকারের ড্রাইভার হিসেবে আত্মগোপনে থেকে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। 

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ কাওছার (৬৩) ও ভিকটিম আজাহার (৪০) মানিকগঞ্জ জেলার চর হিজুলী গ্রামে বসবাস করত এবং একই এলাকায় চাষাবাদ করতো এবং একসাথে ইরি ধানের ক্ষেতে পানি সেচের ব্যবসা করতো। সেই সুবাদে তাদের মধ্যকার ভালো সম্পক ছিলো। এক পর্যায়ে ভিকটিমের বিবাহিত বোন অবলার সাথে আসামি কাওছারের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনার দিন দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অবস্থানরত অবলা, অবলার তৎকালীন স্বামী ফালান, জনৈক ওমর, রুহুল আমিন, আসমান এবং রফিজসহ আরো কয়েকজন আসামি মোঃ কাওছারের পক্ষ নিয়ে ভিকটিম আজাহারকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। গ্রেফতারকৃত আসামি কাওছার ভিকটিমের মাথায় লাঠি দিয়ে সজোড়ে আঘাত করলে ভিকটিমের মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে এবং ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পরে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম আজাহারকে মৃত ঘোষণা করেন। 

মৃতের আপন ছোট ভাই মোঃ আলী হোসেন (বর্তমানে মৃত) বাদী হয়ে আসামি কাওছারসহ সর্বমোট ০৭ জনকে আসামি করে একই দিন মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ কাওছার (৬৩)সহ এজাহারনামীয় বেশ কয়েকজন আসামি থানা পুলিশ কর্তৃক ধৃত হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি কাওছার ০২ মাস হাজত খেটে ১৯৯১ সালে জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। 

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারনামীয় আসামি মোঃ কাওছার, ওমর, রুহুল আমিন, আসমান এবং রফিজ’কে অভিযুক্ত করে বিজ্ঞ আদালতে একই বছর ডিসেম্বর মাসে চার্জশিট দাখিল করেন এবং এজাহার নামীয় বাকি ০২ জন আসামি অবলা ও তার তৎকালীন স্বামী ফালান উভয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশিট থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। পরবর্তী চার্জশিটের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত উক্ত মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং পর্যাপ্ত স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ভিকটিম আজাহার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ১৯৯২ সালের শেষের দিকে মানিকগঞ্জ জেলার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামি মোঃ কাওছারকে মৃত্যুদণ্ড, অপর আসামি ওমর, রুহুল আমিন, আসমান ও রফিজ প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীগণ ০৫ বছর সাজাভোগের পরে বিজ্ঞ উচ্চ আদালতে আপিল করে বর্তমান আদালতের নির্দেশে জামিনে আছে। পলাতক আসামি মোঃ কাওছার মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ০২ মাস হাজতে থেকে জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই গত ৩১ বছর পলাতক ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত