‘বৃষ্টির পানি ও সামান্য চিড়া খেয়ে’ দিন পার করছেন তারা

আপডেট : ২১ জুন ২০২২, ০৮:০৪ পিএম

সুনামগঞ্জের বন্যা উপদ্রুত বিভিন্ন এলাকায় তীব্র খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হলেও এখনো মিলছে না পর্যাপ্ত ত্রাণ। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে এসব এলাকার বানভাসি মানুষের। এমন অবস্থায় রাস্তায় ট্রাক, পিকআপ বা নদীতে নৌকা দেখলেই ভিড় জমাচ্ছেন বন্যার্তরা।

সরেজমিনে সিলেট থেকে ট্রাকে করে সুনামগঞ্জ যাওয়ার পথে দেখা যায়, শান্তিগঞ্জ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ সুনামগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের পাশের গ্রামে ত্রাণের গাড়ি দেখলেই খাবারের আশায় ছুটে আসছেন, চিৎকার করে খাবার চাইছেন।

কুঁড়েঘরের শিল্পী তাসরিফ খান এবং তার স্বেচ্ছাসেবকদের ত্রাণবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দিরাই যাওয়ার পথে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের নয়াহাটি গ্রামের মানুষ আটটি ছোট নৌকা এবং দুটি ভেলায় এসে ত্রাণ সাহায্য চান।  হাওরের মাঝখানে তাসরিফ খানের চলতি নৌকাকে অনুরোধ জানায়। তাসরিফ খান নৌকা থামিয়ে সেখানে ত্রাণ বিতরণ করেন।

এ সময় নয়াহাটি গ্রামের কৃষক আব্দুন নূর দেশ রূপান্তরকে জানান, এক মাস আগে প্রথম ধাপের বন্যায় মাঠের ফসল হারান আর এবারের ভয়াবহ বন্যায় নিজের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। ঘরে কোনো খাবার নেই। সোমবার থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কেবল বৃষ্টির পানি আর সামান্য কিছু চিড়া খেয়ে বেঁচে আছেন।

এ সময় একই গ্রামের সাদ আলী জানান, বন্যার মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকার তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থানীয় এমপি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান কিংবা উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কেউ খবর নিতে আসেননি। এখন পর্যন্ত তাদের গ্রামে কোনো সরকারি সাহায্য এসে পৌঁছায়নি। তাই নিরুপায় হয়ে এসব মানুষ এখন খাবারের জন্য নৌকা দেখলেই ছুটে আসে।

এ ছাড়া দেখা যায়, ট্রাক-পিকআপ দেখলেই শান্তিগঞ্জ উপজেলার, বগলারকাড়া, নারায়ণপুর, নোয়াখালী, নোয়াগাঁও, কান্দাগাও, গুলেরগাও, শাখাইতিসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষুধার্ত মানুষ ত্রাণের আশায় ভিড় জমান ঢাকা-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের সবারই প্রত্যাশা খাবার। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কোনো ত্রাণ সহায়তার গাড়ি দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছেন তারা।

জানতে চাইলে আম্বিয়া খাতুন বলেন, আগে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করতেন। কিন্তু বন্যায় গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় এখন ভিক্ষা করতে যেতে পারেন না। তাই এখানে সকাল থেকে খাবারের আশায় বসে আছেন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের গাগলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশ্রয়গ্রহণকারীরা গাদাগাদি করে থাকছেন। বারান্দায়ও আছে বেশ কয়েকটি পরিবার। বেঞ্চ-টেবিল একত্র করে কিংবা মেঝেতে কেবল বিছানা–চাদর ও পুরোনো পত্রিকা বিছিয়ে তারা থাকছে। তবে অতিরিক্ত মানুষ গাদাগাদি করে থাকায় অনেকে পালা করে ঘুমাচ্ছেন।

ঘুমের চেয়ে খাবারের সমস্যা বেশি ভোগাচ্ছে জানিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রাফিজা বেগম বলেন, মাঝরাতে তার ঘরে পানি উঠলে এক প্রতিবেশীর নৌকায় করে জান নিয়ে কোনোমতে আশ্রয়কেন্দ্রে আসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত